AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

High Court: ‘ঘরজামাই থাকা এক পুরনো প্রথা’, স্বামীর যুক্তি খাটল না হাইকোর্টে

২০০৮ সালের ২১ নভেম্বর বিয়ে হয় ওই দম্পতির। তাঁদের ১১ বছরের এক সন্তান রয়েছে। স্বামী আদালতে অভিযোগ করেন যে, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রী ঘনঘন পাটনায় নিজের বাপের বাড়িতে চলে যেতেন। স্বামীর দাবি ছিল, স্ত্রীর বাপের বাড়ির লোকজন তাঁকে নিজের বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মাকে ছেড়ে পাটনায় গিয়ে 'ঘরজামাই' থাকার জন্য চাপ দিতেন।

High Court: 'ঘরজামাই থাকা এক পুরনো প্রথা', স্বামীর যুক্তি খাটল না হাইকোর্টে
Image Credit: AI Generated Image
| Updated on: Sep 21, 2026 | 11:31 PM
Share

রাঁচি: নিজের বাবা-মাকে ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে থাকার জন্য চাপ দেওয়া হত! ঘরজামাই হয়ে থাকতে বলতেন স্ত্রী। দিনের পর দিন এমনটা চলতে চলতে স্ত্রী সেই যে বাপের বাড়ি গিয়ে উঠলেন, আর ফেরেননি। এই পরিস্থিতিতে বিচ্ছেদের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর যুক্তি ধোপে টেকেনি।

পারিবারিক আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু সেই রায়ই বহাল রেখে স্বামীর দায়ের করা ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, স্ত্রী যদি স্বামীকে ‘ঘরজামাই’ হিসেবে থাকতে বলেন, তবে সেই আর্জি হিন্দু বিবাহ আইনের আওতায় স্বামীর ওপর ‘মানসিক অত্যাচার’ হিসেবে গণ্য হ হবে না।

কী সেই মামলা

২০০৮ সালের ২১ নভেম্বর বিয়ে হয় ওই দম্পতির। তাঁদের ১১ বছরের এক সন্তান রয়েছে। স্বামী আদালতে অভিযোগ করেন যে, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রী ঘনঘন পাটনায় নিজের বাপের বাড়িতে চলে যেতেন। স্বামীর দাবি ছিল, স্ত্রীর বাপের বাড়ির লোকজন তাঁকে নিজের বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মাকে ছেড়ে পাটনায় গিয়ে ‘ঘরজামাই’ থাকার জন্য চাপ দিতেন। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় সংসারে অশান্তি শুরু হয়। স্ত্রী শেষ পর্যন্ত বাপের বাড়ি চলে যান। এই অভিযোগ নিয়ে মানসিক নির্যাতনের দাবি জানিয়ে পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন স্বামী। বিচারপতি সুজিত নারায়ণ প্রসাদ এবং বিচারপতি সঞ্জয় প্রসাদের বেঞ্চে ওঠে মামলাটি।

কী বলল হাইকোর্ট

হাইকোর্ট উল্লেখ করে যে, সমাজে ‘ঘরজামাই’ থাকার প্রথা অতি প্রাচীন। এটি সম্পূর্ণভাবে জামাই বা স্বামীর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। এই মামলায় স্বামীকে ঘরজামাই থাকার জন্য বাধ্য বা জোর করা হয়েছিল এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্ত্রী ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। একে ‘অত্যাচার’ বলা যায় না।

আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে বাপের বাড়িতে যাওয়া স্ত্রী’র অধিকার। এর সঙ্গে কোনওভাবেই অপরাধ বা মানসিক নির্যাতনের সম্পর্ক নেই। দাম্পত্য জীবনের মতের অমিল বা রোজকার ঝগড়াকে ‘ক্রুয়েলটি’ বলা যায় না। হাজারিবাগ ফ্যামিলি কোর্ট (পারিবারিক আদালত) স্বামীর ডিভোর্সের আবেদন খারিজ করে যে রায় দিয়েছিল, হাইকোর্ট তাকেই সমর্থন জানায় এবং স্বামীর দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দেয়।

Follow Us