
নয়া দিল্লি: রাজধানীতে দফায় দফায় প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে কংগ্রেস তথা বিরোধীদের। ককরোচদের আন্দোলনও নতুন করে শিরোনামে উঠে এসেছে। এই আবহে কংগ্রেসকে (Congress) কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। এসআইআর যে বিরোধীদের কাছে নিছকই অজুহাত, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার গুজরাটের পুরভোটের জয় ও একাধিক রাজ্যে উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ের তথ্য় তুলে ধরে, অমিত শাহ বলেন, “সাধারণ মানুষ এখনও নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আছেন।” নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে বিপুল ভোটে জয়ের কথাও এদিন উল্লেখ করেন শাহ।
সম্প্রতি গুজরাটের পুরভোটে ৩২ টি আসনে জামানত জব্দ হয়েছে কংগ্রেস। এই তথ্য তুলে ধরে মঙ্গলবার অমিত শাহ বলেন, “গুজরাটের ভোটাররা আজও নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আছেন। বিশেষ করে রাহুল গান্ধীকে বলতে চাই, ৪১ বছর ধরে গুজরাটে একটা ভোটেও জিততে পারেনি কংগ্রেস। ১৯৮৫-র পর থেকে কংগ্রেস একটানা হারছে গুজরাটে। এটা কি এসআইআরের ফল?”
পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, পণ্ডিচেরীর উপ নির্বাচনে বিজেপির জয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন শাহ। কোনও উপ নির্বাচনে কংগ্রেস একটাও সিট পায়নি। নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ২২ হাজার ও রেজিনগরে ৭৫ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপি জিতেছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর এই ফলাফলে পর কংগ্রেসের আত্মসমীক্ষা করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
দফায় দফায় যখন পথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন রাহুল গান্ধী, তখন সেই রাহুল গান্ধীকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বললেন শাহ। উল্লেখ করলেন, ত্রিপুরার গ্রাম সমিতির ভোটে, ৭৭.৫ শতাংশ আসনে জিতেছে বিজেপি। আর সেখানে ভোট হয়েছে ব্যালট পেপারে। সে কথা উল্লেখ করে শাহ এদিন বলেন, “যারা ব্যালট বক্সের অজুহাত দেয়, তাদের বলতে চাই ত্রিপুরায় ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে। ত্রিপুরায় ৩৩ বছর ধরে কংগ্রেস জেতেনি। বাংলায় পাঁচ দশক ধরে কংগ্রেস জেতেনি। ৩-৪ দশক ধরে হেরে আসছে। এগুলো কি এসআইআরের ফল?” রাহুলকে সরাসরি শাহ বলেন, “যেদিন থেকে বিরোধী দলনেতা হয়েছেন, সেদিন থেকে কংগ্রেস লাগাতার হারছে।”
অমিত শাহ এদিন বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়ে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ভবিষ্যদ্বাণী করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “দেশের একাধিক প্রান্তে আপনারা পৌঁছতে পারেননি। কংগ্রেস যে রাজনীতি করছে, তাতে কোনও ফল হবে না। এসআইআরের বাহানায় অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর যে চেষ্টা রাহুল গান্ধী করছেন, তা সবাই বুঝে গিয়েছে। ২০২৯-এ হারের জন্য তৈরি থাকুন। এনডিএ আবার জিতবে। একটানা চতুর্থবার হারবে কংগ্রেস।”