Super El Niño Impact on India: বর্ষা ঢুকতেই এসে গেল Super El-Nino-ও, ক’দিনেই শুকনো খটখটে মরুভূমি হয়ে যাবে ভারত?
Super El Niño 2026: জুন ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা মাপার বিশেষ সূচক (Nio 3.4 index) ইতিমধ্যেই +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করে গিয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো শুরুর প্রমাণ। শুধু সমুদ্রের উপরিভাগই নয়, সমুদ্রের তলদেশেও বিপুল পরিমাণ গরম জল জমা হচ্ছে।

নয়া দিল্লি: জুনের শুরুতে বর্ষা প্রবেশ করেছে ভারতে। বাংলাতেও ক’দিন হল বর্ষা (Monsoon) প্রবেশ করেছে। তবে চলতি বর্ষা মরশুমে ভারতের আবহাওয়ার উপরে ঘনাচ্ছে বড়সড় বিপর্যয়ের মেঘ। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হয়ে গেল ‘এল নিনো’ (El Nino)। মৌসম ভবন (IMD) দিল এই আপডেট। শুধু এল নিনো তৈরিই নয়, আগামী দিনে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। চরম জলসঙ্কট-খরা দেখা দেবে এবার? চাষ-আবাদও কমে যাবে?
সুপার এল নিনো এসে গেল!
ভারতে খরা ও তীব্র গরমের সঙ্কেত দিচ্ছে মৌসম ভবন। প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক ‘এল নিনো’। মৌসম ভবনের জুন মাসের বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, যা ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। সমুদ্রের এই অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠার প্রভাব এখন বায়ুমণ্ডলেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রকৃতিতেও এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাব পড়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
মৌসম ভবন বলেছে, “বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষাকাল) চলাকালীন এটি আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে”। মৌসুমী পূর্বাভাস মডেল (MMCFS) অনুযায়ী, সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই এল নিনোর তীব্রতা আরও বাড়বে।
কী এই ‘এল নিনো’ এবং ভারতের জন্য কেন এটি চিন্তার?
এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে যায়। ভারতের ক্ষেত্রে এর প্রভাব খুবই ভয়ের। এর আগে যখনই এল নিনো সক্রিয় হয়েছে, তখনই ভারতে বর্ষাকালে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গিয়েছে, তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে। দীর্ঘ সময় ধরে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং কোনও কোনও বছর তীব্র জল সঙ্কটও দেখা দিয়েছে।
জুন ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা মাপার বিশেষ সূচক (Nio 3.4 index) ইতিমধ্যেই +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করে গিয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো শুরুর প্রমাণ। শুধু সমুদ্রের উপরিভাগই নয়, সমুদ্রের তলদেশেও বিপুল পরিমাণ গরম জল জমা হচ্ছে, যা আগামী মাসগুলোতে ওপরে উঠে এসে এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলবে। জুলাই মাস থেকে এই গরম স্রোত প্রশান্ত মহাসাগরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।
আশার আলো কি একেবারেই নেই?
মৌসম ভবন যদিও আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে ভারতে বর্ষা কেবল এল নিনোর ওপর নির্ভর করে না। এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় আশার বাণী শুনিয়েছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA)। গত ১১ জুন এল নিনোর ঘোষণা করা হয়েছে। জাপানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসের দিকে ভারত মহাসাগরে একটি ‘পজিটিভ আইওডি’ (Positive IOD) বা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। যদি এমনটা ঘটে, তবে তা এই সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’-র ক্ষতিকর প্রভাবকে অনেকটাই রুখে দিতে পারবে এবং ভারতে খরা বা বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও কম হবে।
