
নয়া দিল্লি: ৩৫ বছর আগে যখন রামদেব হরিদ্বারে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর কাছে এক কানা-কড়িও ছিল না। আজ তাঁর ১ লক্ষ কোটির সাম্রাজ্য রয়েছে। মঙ্গলবার টিভি নাইন নেটওয়ার্কের কনক্লেভ ‘সত্তা সম্মেলন’ (Satta Sammelan)-এর মঞ্চ থেকে এমনটাই জানালেন যোগগুরু। তবে এখানেই শেষ নয়, রামদেবের সংকল্প, “এটা বাড়িয়ে ৫ লক্ষ কোটির করব, আর সেটা ৫ বছরেই হবে।” তবে এই বিশাল সাম্রাজ্য দেশসেবার কাজেই লাগাতে চান যোগগুরু। তাই গুরুকুলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানাবেন বলেও জানান রামদেব।
নিজের উত্থানের কথা তুলে ধরে সকলকে দেশের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণাও দেন রামদেব। তিনি বলেন, “আমি সরকার থেকে একটা পয়সা নিইনি। ভারতরত্ন, পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী- কোনও সম্মান কখনও নিইনি। আমি মনে করি, আমি জন্ম থেকে ভারতরত্ন।” বিগত ৩৫ বছরের অধ্যাবসায় ও উত্থানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে রামদেব আরও বলেন, “যখন পড়াশোনা করতাম তখন ভোট ৪টে উঠতাম। এখন আমি ভোর ৩টেয় উঠি। সংবাদমাধ্যমে ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি লোক আমাকে ফলো করে, ১ কোটির বেশি লোক ইউটিউবে ফলোয়ার্স রয়েছে। আমার ৮০০ কোটির বেশি ভিডিয়ো দেখেছে। তবে এটা করার জন্য অনেক কিছু করতে হয়েছে।” দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি একজন সন্ন্যাসী হয়ে যখন এতকিছু করছি, তখন আপনার তো পরিবার, সন্তান আছে। আপনারাও করুন। সরকারও এই চেষ্টা করছে। এটা করার জন্য সরকার বিকশিত ভারত নাম দিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে। কিন্তু, সব নাগরিকের দেশকে বিকশিত করার লক্ষ্যে চেষ্টা করা উচিত।” এপ্রসঙ্গে WITT-র মঞ্চে যোগাসনের বিভিন্ন কসরতও দেখান রামদেব।
আগামী ৫ বছরে ভারতের সম্ভাবনাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে হবে বলে সোমবারই টিভি নাইন নেটওয়ার্কের ‘সত্তা সম্মেলন’-এর মঞ্চে এসে জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার সেই একই সুর শোনা গেল যোগগুরু রামদেবের গলায়। একেবারে ভবিষ্যদ্বাণীর সুরে তিনি বলেন, “শিখর স্পর্শ করার জন্য প্রস্তুত ভারত। আগামী ১০ বছরে বিশ্বের মহাশক্তি হবে ভারত। আমরা এই জায়গায় পৌঁছব, যেখানে দুনিয়া ভারতের পিছনে ছুটবে।”
ভারত কী ভাবে বিশ্বের মহাশক্তি হয়ে উঠবে, তাও ‘সত্তা সম্মেলনে’ উল্লেখ করছেন রামদেব। তিনি বলেন, “আজ ১০০ কোটির বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আমরা হার মানব না, চরৈবেতি, চরৈবেতি, চরৈবেতি- সবাইকে এই সংকল্পে জুড়তে হবে।”
এখনও দেশ থেকে কালো টাকা শেষ হয়নি জানিয়েও রামদেব বলেন, কালো টাকা শেষ হতে এখনও সময় লাগবে। এটা একটা প্রক্রিয়া। তবে মোদীজি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেকটা স্বচ্ছতা এনেছেন। মোদীজি দুর্নীতিকে কম করেছেন। বিরোধীরা নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে অনেক কু-কথা বলেন। সেই প্রসঙ্গে আগামী লোকসভা ভোটের কথা তুলে ধরে যোগগুরু বলেন, “বিরোধীরা উল্টোপাল্টা বলতে থাকলে মোদীজির ৪০০ পার হয়ে যাবে।”