পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ে নতুন ভাবনা কেন্দ্রের, জ্বালানির জ্বালা কমবে দেশবাসীর ?

ইতিমধ্যেই সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে শুল্ক কমানো ছাড়াও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। যেমন, পেট্রোলের উপর আবগারি শুল্ক ১৩ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ৩ টাকা। ডিজেলের উপর ১০ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে শূন্য। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার হলেও এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ে নতুন ভাবনা কেন্দ্রের, জ্বালানির জ্বালা কমবে দেশবাসীর ?
Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Mar 30, 2026 | 12:12 PM

কলকাতা : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চরমে। ইরান বনাম আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে বিশ্বের জ্বালানি ভান্ডারের ভবিষ্যৎ। গোটা পৃথিবীতে এই সময়ে জ্বালানি পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের। ইতিমধ্যেই ভারত সরকারকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইরান। ফলত, এবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি ভর্তি জাহাজ আসতে পারবে ভারতে। যার ফলে জ্বালানির এই উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে বলে ভাবা হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি পরিস্থিতি বেশ বেগতিক ভারতে। বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রান্নার এলপিজি গ্যাসের দাম। দাম বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেল তেলেরও। জনগণকে স্বস্তি দিতে জ্বালানির প্রতি লিটারে ১০ টাকা শুল্ক মকুব করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। দেশে জ্বালানির যেরকম দুরাবস্থা, আশা করা যায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে জনগণ। তবে ইতিমধ্যেই আশার আলো দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে ১৫ দিন অন্তর পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রিভিউ করা হবে। গোটা বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের এই মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র।

সিবিআইসি-র চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদী জানিয়েছেন,”আগামী দিনে সরকার প্রতি ১৫ দিন অন্তর জ্বালানির দামের রিভিউ করতে পারে। সাধারণ জনগণ যাতে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সমস্যায় না পড়ে, সেই জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।” তাঁর কথায়,”এর ফলে দেশের রাজস্ব ভান্ডার ও তেলের কোম্পানি – এই দুইয়ের মধ্যে মধ্যস্থতা বজায় রাখবে।” যদিও প্রতি লিটারে ১০ টাকা শুল্ক কমানোর ফলে দুই সপ্তাহে প্রায় ৭০০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখ দেখবে কেন্দ্র। ১৫ দিন অন্তর এই দামের তারতম্য খতিয়ে দেখা হলেও মূল কারণ হিসেবে চর্চায় থাকবে শুল্কের দাম, দেশের জ্বালানির চাহিদা ও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম। এই তিন দিক বিচার করেই দেখা হবে জ্বালানির দাম কতটা বাড়ানো বা কমানো সম্ভব।

ইতিমধ্যেই সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে শুল্ক কমানো ছাড়াও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। যেমন, পেট্রোলের উপর আবগারি শুল্ক ১৩ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ৩ টাকা। ডিজেলের উপর ১০ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে শূন্য। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার হলেও এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে বার্ষিক করের প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি হবে ও এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। এর ফলেই স্পষ্ট, মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধের ফলে কতটা আর্থিক চাপের মুখোমুখি হবে দেশগুলি।

 

Follow Us