Rahul Gandhi: প্রচারে গিয়ে শুধু মিথ্যা বলছেন রাহুল গান্ধী? মিলল হাতেনাতে প্রমাণ

Rahul Gandhi: রাহুলের দাবি ছিল যে দেশের রাষ্ট্রপতি আদিবাসী হওয়ায় তাঁকে রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সংসদের উদ্বোধনেও তাঁকে আমন্ত্রণ করা হয়নি, কারণ তিনি নীচু শ্রেণি। এ প্রসঙ্গে রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের তরফে বলা হয়, রাহুলের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

Rahul Gandhi: প্রচারে গিয়ে শুধু মিথ্যা বলছেন রাহুল গান্ধী? মিলল হাতেনাতে প্রমাণ
নির্বাচনী প্রচারে রাহুল গান্ধী।

|

May 02, 2024 | 7:12 AM

নয়া দিল্লি: লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মিথ্যা বলছেন রাহুল গান্ধী? বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করতে বিকৃত তথ্য ও ভুয়ো খবর বলছেন তিনি? এমনটাই মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে। বিজেপির দাবি লাগাতার মিথ্য়াচার করছেন রাহুল গান্ধী। ওয়েনাডের বিদায়ী সাংসদের এই মিথ্যাচার এবার ভিডিয়োতেও ধরা পড়ল।

প্যামফ্লেট নামক একটি সংবাদমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে একাধিক ভিডিয়ো পোস্ট করে রাহুল গান্ধীর মিথ্যাচারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। গত ৩০ এপ্রিল মধ্য প্রদেশের ভিন্দে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে রাহুল গান্ধী যে যে দাবি করেছিলেন, তার থেকেই ১০টি মিথ্যা খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। কী সেই মিথ্যা? প্রথমেই রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ক্ষমতায় এলে তিনি সংবিধান ধ্বংস করে দেবেন। রাহুলের সেই দাবির ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়, যেখানে দেখা যাচ্ছে, মোদী বলেছেন, বাবা সাহেব আম্বেদকর নিজে আসলেও সংবিধান বদল হবে না। আমাদের সরকারের কাছে সংবিধান গীতা, কোরান, বাইবেল।

রাহুলের দ্বিতীয় মিথ্যা দাবি ছিল যে রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় কোনও গরিব শ্রমিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অথচ রাম মন্দিরের উদ্বোধনের দিনের ভিডিয়োয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখা যায় তিনি শ্রমিকদের উপর পুষ্প বর্ষণ করছেন ধন্যবাদ জানাতে।

রাহুলের আরও মিথ্যা দাবি ছিল যে দেশের রাষ্ট্রপতি আদিবাসী হওয়ায় তাঁকে রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সংসদের উদ্বোধনেও তাঁকে আমন্ত্রণ করা হয়নি, কারণ তিনি নীচু শ্রেণি। এ প্রসঙ্গে রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের তরফে বলা হয়, রাহুলের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

কংগ্রেস নেতা শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিয়েও মোদী সরকারকে আক্রমণ করেন। রাহুল বলেন যে রেলওয়ে, সোলার পাওয়ার, বিদ্যুৎ, রাস্তা, অস্ত্র-সব জায়গাতেই আদানিকেই কাজ পাইয়ে দিয়েছে বিজেপি সরকার। যদিও নথি অনুযায়ী, ইউপিএ জমানায় আদানি গোষ্ঠীর দারুণ বৃদ্ধি হয়েছে। কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতেও বিপুল বিনিয়োগ করেছে আদানি গোষ্ঠী।

রাহুল গান্ধী ওই জনসভা থেকেই দাবি করেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদী কৃষকদের জঙ্গি বলেছেন। যদিও এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে এই কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। বরং কৃষকদের উন্নয়নে সরকার কী কী করেছে, তার খতিয়ান দিতে শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি বলেন যে ২০১৪-র আগে সরকারের সমর্থন পেত না কৃষকরা। এখন কোটি কোটি কৃষক পিএম কিসান সম্মান নিধি পাচ্ছে। ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

রাহুলের আরও একটি বড় দাবি, দেশে বেকারত্ব ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। এদিকে, সরকারি তথ্য বলছে বিগত কয়েক বছরে দেশে চাকরি ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে এবং বেকারত্বের হার কমেছে।

কংগ্রেসের ইস্তেহার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন যে ক্ষমতায় এলে সকলের অ্যাকাউন্টে লক্ষাধিক টাকা পাঠানো হবে। এদিকে যিনি কংগ্রেসের এই ইস্তেহার লিখেছেন, সেই প্রবীণ চক্রবর্তী নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তাদের হাতে কোনও তথ্যই নেই।

রাহুলের আরও দাবি, রাম মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেব গৌতম আদানি ছবি তুলেছিলেন। সেখানেই কংগ্রেসের সঙ্গে আদানির কোনও সম্পর্ক নেই। যদিও আসল সত্য হল, রাম মন্দিরের উদ্বোধনে যাননি গৌতম আদানি। ছবি তোলা তো দূরস্থ। তবে কংগ্রেসের একাধিক নেতা, এমনকী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট বঢরার সঙ্গে গৌতম আদানির ছবি রয়েছে।

বিভিন্ন শিল্পপতিদের ১৬ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ মাফ করে দিয়েছে মোদী সরকার, এমনটাও দাবি ছিল রাহুলের। কিন্তু সরকার এমন কোনও ঋণ মকুব করেনি। ২০১৯ সালেও একই মিথ্যা বলতে শোনা গিয়েছিল রাহুলকে।

কংগ্রেস যে সংবিধান সমৃদ্ধ করার কথা বলে, সেক্ষেত্রে কেন ৭৫ বছর ধরে গোটা দেশে সংবিধান কার্যকর কেন করেনি, সেই প্রশ্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

Follow Us