Water Crisis: কোটি কোটি মানুষের বাস, এদিকে আর মাত্র একমাসের পানীয় জল আছে! তারপর কী হবে?
Mumbai-Goa Drinking Water Shortage: আগামী দিনগুলো পশ্চিম ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যদি দ্রুত বৃষ্টি শুরু হয়, তবে জলাশয়গুলো আবার ভরে উঠবে। আর যদি খরা পরিস্থিতি বজায় থাকে, তবে শহর ও রাজ্যগুলোকে জলের ব্যবহারে আরও অনেক বেশি কাটছাঁট করতে হবে। নাহলে পানীয় জলের জন্য গলা শুকিয়ে যাবে সবার।

মুম্বই: এল নিনোর (El Nino) প্রভাবে পুড়ছে ভারত। এবার বর্ষার ঘাটতি হবে, তার আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিল মৌসম ভবন। তবে সেই ঘাটতি যে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নেবে, তা কল্পনাও করা যায়নি। বর্ষা শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই তার প্রভাব টের পাওয়া যাচ্ছে। পশ্চিম ভারতে দেরিতে বর্ষা আসার কারণে মুম্বইয়ে জলসঙ্কট (Mumbai Water Crisis) এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুম্বইয়ে বর্তমানে যে পরিমাণ জল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর আর ৪০ দিন চলতে পারে। অন্যদিকে, গোয়া সরকার জানিয়েছে যে তাদের কাছে আর মাত্র এক মাসের পানীয় জল অবশিষ্ট আছে। এরপর কী হবে?
টানা বৃষ্টির অভাবে হ্রদ এবং বাঁধগুলোর জলের স্তর ক্রমাগত কমেছে। এতে চিন্তা আরও বেড়েছে। মৌসম ভবন (IMD) পূর্বাভাস দিয়েছে যে আগামী সপ্তাহের শেষে গোয়ায় আবার বৃষ্টি শুরু হতে পারে, তবে আপাতত মুম্বই ও গোয়াকে ‘চাতক পাখি’র মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
মুম্বইয়ের হ্রদগুলিতে জলের স্তর তলানিতে-
মুম্বই মূলত সাতটি হ্রদ থেকে মূলত বাণিজ্যনগরীতে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। এগুলি হল- তানসা, বিহার, তুলসী, ভাতসা, আপার বৈতরণা, মোদক সাগর এবং মিডল বৈতরণা।
বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)-র হাইড্রোলিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই জলাশয়গুলিতে এখন মোট জলের পরিমাণ মাত্র ৯.৩৩ শতাংশ। গত বছর এই সময়েও যেখানে ১২.২৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ১০.২৪ শতাংশ জল মজুত ছিল, সেই তুলনায় এবারের পরিস্থিতি বেশ খারাপ।
সাতটি জলাশয় মিলিয়ে বর্তমানে মোট জল রয়েছে ১,৪৪,৯১৮ মিলিয়ন লিটার। অথচ, মুম্বই শহরের প্রতিদিন প্রায় ৩,৯৫০ মিলিয়ন লিটার পানীয় জলের প্রয়োজন হয়।
লোকাল ট্রেনের ভিড়, অফিসের লম্বা ডিউটি আর চায়ের আড্ডায় মেতে থাকা এই শহরের জন্য জলসংকট মোটেও ছোটখাটো বিষয় নয়। বাড়ি, আবাসন, ছোট দোকান থেকে শুরু করে হোটেল ও হাসপাতাল-সব জায়গাতেই মারাত্মক প্রভাব ফেলছে জলসঙ্কট।
গোয়ায় আর মাত্র এক মাসের জল পড়ে আছে-
একই আশঙ্কায় দিন কাটছে গোয়ারও। পর্যটকদের হটস্পট গোয়াতেও জলের আকাল। রাজ্যের জল সরবরাহ মন্ত্রী সুভাষ ফল দেশাই সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, বৃষ্টির অভাবে জলাশয়গুলোর জল কমে গিয়েছে ব্যাপকভাবে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। আগামী এক মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত জল আমাদের কাছে রয়েছে।”
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, মজুত জল যাতে সময়ের আগেই ফুরিয়ে না যায়, তার জন্য শীঘ্রই কিছু কড়া নির্দেশিকা জারি করা হবে। সেই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন, “আপাতত সঙ্কট না থাকলেও, ভবিষ্যতে যে পরিস্থিতি খারাপ হবে না, এমন গ্যারান্টি দেওয়া যাচ্ছে না।”
গোয়ার কোন কোন বাঁধের অবস্থা শোচনীয়?
- সেলাউলি বাঁধ (Selaulim dam): দক্ষিণ গোয়া, কুশাবতী জেলা এবং উত্তর গোয়ার কিছু অংশে জল সরবরাহকারী এই বাঁধটিতে এখন মাত্র ২৭ শতাংশ জল রয়েছে। এর দৈনিক জল তোলার ক্ষমতা ২৮০ এমএলডি (MLD)।
- আঞ্জুনেম বাঁধ (Anjunem dam): উত্তর গোয়ার এই বাঁধটির জলের স্তর নেমে এসেছে মাত্র ৯.৯ শতাংশে।
- মৈসাল বাঁধ (Mhaisal Dam): এই বাঁধটিতে জল রয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ।
অবশ্য কিছু এলাকা এখনও তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানাকোনার চপোলি (Chapoli) বাঁধ এবং আমথানে (Amthane) জলাশয়ে এখনও “বেশ ভালো” পরিমাণ জল মজুত আছে।
আগামী দিনগুলো পশ্চিম ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যদি দ্রুত বৃষ্টি শুরু হয়, তবে জলাশয়গুলো আবার ভরে উঠবে। আর যদি খরা পরিস্থিতি বজায় থাকে, তবে শহর ও রাজ্যগুলোকে জলের ব্যবহারে আরও অনেক বেশি কাটছাঁট করতে হবে। নাহলে পানীয় জলের জন্য গলা শুকিয়ে যাবে সবার।
