
নয়া দিল্লি: মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষকে জ্বালানির জ্বালা থেকে মুক্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোল-ডিজেলের উপরে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বা স্পেশাল এক্সাইজ ডিউটি (Special Excise Duty) লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে অয়েল মার্কেটিং সংস্থা থেকে শুরু করে পেট্রোল পাম্পগুলি। তাদের পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়াতে হবে না আপাতত। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে গভীর রাতের এক জরুরি বৈঠক।
জানা গিয়েছে, গতকাল, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পেট্রোল-ডিজেলের উপরে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কমানোর। বিশ্ব বাজারে ক্রুড তেলের মূল্যবৃদ্ধির আবহে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলিকে কিছুটা ছাড় দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকীর।
সূত্রের খবর, গত রাতের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী জ্বালানি নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং আধিকারিকদের নির্দেশ দেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যেন কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের উপরে না পড়ে।
এই বৈঠকের পরই অর্থ মন্ত্রকের তরফে নির্দেশিকা জারি করে আবগারি শুল্ক কমানোর ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের জেরে পেট্রোল-ডিজেলের দাম গ্রাহকদের জন্য না কমলেও, যুদ্ধ আবহে নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হবে না। এতে সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত না হলেও, অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি কিছুটা হলেও সুরক্ষা পাবে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, দেশ জুড়ে জ্বালানির জোগান যাতে বজায় থাকে এবং দাম সাধ্যের মধ্যে থাকে, তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলিকে জ্বালানির জোগান বজায় রাখতে সরকার সাহায্য করবে বলেও তিনি জানান। দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই বলেই জানান অর্থমন্ত্রী। লকডাউন নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।