
নয়া দিল্লি: রামলীলা ময়দানে মমতা-বেবি পাশাপাশি। সমাজমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে দুই দলের দুই নেতানেত্রী কানে কানে কথা বলছেন। সমাজমাধ্যমে সেই ছবি পোস্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি লিখেছেন, “যে মন ভুল পথে থাকতেই বেশি পছন্দ করে, তাতে ঠিক করা যায় না।” ফরাসি দার্শনিকের উক্তি উদ্ধৃত করে খোঁচা দিলেন ঋতব্রত।
দিল্লিতে যখনই জ্ঞানেশ কুমার, কমিশন বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে, তখন মমতা-বেবির মধ্যকার রাজনৈতিক ও সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমে এম এ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন, সেই চিঠি অবশ্য তিনি সমস্ত বিরোধী নেতানেত্রীকে পাঠিয়েছিলেন। এরপর মমতা এম এ বেবিকে ফোন করে দীর্ঘক্ষণ কথাও বলেন। সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গেও এই ধরনের কর্মসূচি আয়োজনে লাগাতর তৃণমূল নেতৃত্ব জাতীয় স্তরে যোগাযোগ রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসলে ফরাসি দার্শনিকের কোট তুলে ধরে ঋতব্রত এই বার্তা দিতে চাইছেন দিল্লিতে মমতা তৃণমূল-সিপিএম কাছাকাছি। আর বাংলায় বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে একমাত্র মূল বিরোধী নেতা তিনিই, সেই বার্তাই বাংলার জনমানসের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন তিনি।
যদিও এই পোস্টকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মমতা তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ঋতব্রতর কথার কোনও মূল্য নেই। সিপিএম থেকে রাজ্যসভার এমপি হয়েছিলেন, মমতার ছবি ব্যবহার করে তৃণমূলের থেকে রাজ্যসভার এমপি হয়েছেন। সব দল তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন বিজেপির পায়ে গিয়ে পড়েছে। রামলীলা ময়দানে যে বিজেপি বিরোধী আন্দোলন হয়েছে, তাতে সব বিরোধী নেতানেত্রীদেরই ছবি রয়েছে। ”
বেবি-মমতার সমীকরণের প্রসঙ্গে বারংবার খোঁচা দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সোমবারের সভা থেকেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাহাই তৃণমূল, তাহাই সিপিএম। দুপক্ষ মিলেমিশে একাকার হয়ে আবার সেই নৈরাজ্যের দিন ফিরিয়ে আনতে চায়। এক বিশেষ গোষ্ঠীর লোকেরা এখানে অত্যাচার করেছে, সেই লোকেরা এখন জামা বদল করে লাল জামা পরার চেষ্টা করছেন। কারণ দিল্লিতে বেবি-আন্টির ভাব হয়ে গিয়েছে। একটাই আন্টি, পিসি।”