
নয়া দিল্লি: দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। বেআইনিভাবে জমায়েতের অভিযোগে আটক করা হয়েছে মমতাকে। দ্বারকা সেক্টর ২৩ পুুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাকিদের। কেন আটক করা হল কালীঘাট তৃণমূল নেত্রীকে?
ককরোচ জনতা পার্টির যন্তর মন্তর অভিযান আজ। সকাল থেকেই বজ্রআঁটুনি দিল্লি জুড়ে। যন্তর মন্তরে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সকাল থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়। ইতিমধ্যেই আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা থেকে শুরু করে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সিপিএমেরও। আটক করা হয়েছে পিনারাই বিজয়ন থেকে সুজন চক্রবর্তী। এবার আটক হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
যন্তর মন্তরে যেতে না পেরেই, আজ দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, সাকেত গোখলে, শামিরুল ইসলাম, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। দিল্লি পুলিশ এসে তাঁদের সরতে বলেন। দিল্লিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় পাঁচজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। এই কারণ দেখিয়েই ধর্না প্রত্য়াহার করতে বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু তারপরও ধর্নায় বসে থাকেন মমতা ও তৃণমূলের বাকি সদস্যরা। এরপরই আটক করা হয় তাঁদের। জোর করে তাদের পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। বর্তমানে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আজ একদিনেই দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। এর আগে কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে সরাসরি কোনও থানায় না নিয়ে গিয়ে, দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরানো হয়। একইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কালীঘাট তৃণমূলের বাকি সাংসদদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি।
প্রিজন ভ্যান থেকেই প্রতিমা মণ্ডল ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, “আমাদের কয়েদির মতো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জানিনা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বলব, দিদি আপনাদের সঙ্গে রয়েছে। আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনাদের অধিকার রক্ষার জন্য দিদি যা লড়াই করে চলেছে, সকলে তার জন্য কৃতজ্ঞ।”
বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতেই দেওয়া হয়নি। দিল্লিতে আজ সকাল থেকে যে গণতন্ত্র হত্যা করার যে একটা প্রচেষ্টা চলছে, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের পরিবেশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতে দেবে না, এটা আগে থেকেই ঠিক ছিল। বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে। তীব্র নিন্দা করছি। প্রতিবাদটাও করতে দেবে না। বাংলার অগ্নিকন্যাকে দিল্লিতে আটক করা হল, প্রতিবাদ করতে দেওয়া হল না, এরপর বিজেপি যেন গণতন্ত্রের কথা না বলে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক হতেই কংগ্রেস তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের পাশে আছে কংগ্রেস।”