Milind Deora: ‘১৯৬৮ বা ২০০৪-এর কংগ্রেস আর নেই…’, কোথায় বদল দেখলেন মিলিন্দ দেওরা?
Milind Deora on Congress: কোথায় আগের কংগ্রেসের থেকে বর্তমান দল আলাদা হয়ে গিয়েছে? মিলিন্দ দেওয়ার দাবি, বর্তমানে কংগ্রেস দলের একমাত্র লক্ষ্য হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা বলছেন বা করছেন, তার বিরোধিতা করা। তিনি আরও বলেছেন, বৃদ্ধি, আকাঙ্খা, অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয়তাবাদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন তিনি, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অবিচার এবং নেতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।

মুম্বই: কংগ্রেস আর সেই কংগ্রেস নেই। ১৯৬৮ বা ২০০৪ সালেও যে কংগ্রেস ছিল, বর্তমান সময়ের কংগ্রেস সেই দল থেকে অনেকটা আলাদা। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) কংগ্রেস ছেড়ে একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দিয়ে এমনই দাবি করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মহারাষ্ট্রের বিশিষ্ট নেতা মিলিন্দ দেওরা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিবির বদল করলেও, তিনি কংগ্রেসের অনুগত সৈনিক ছিলেন বলেই দাবি করেছেন। তাঁর মতে, শতাব্দী প্রাচীন দলটির সবথেকে চ্যালেঞ্জিং দশকে তিনি দলের প্রতি অনুগত ছিলেন।
তিনি বলেন, “সকাল থেকে প্রচুর ফোন আসছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, কেন আমি কংগ্রেস পার্টির সঙ্গে আমার পরিবারের ৫৫ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। আমি দলের সবথেকে চ্যালেঞ্জিং দশকে দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। দুর্ভাগ্যক্রমে, আজকের কংগ্রেস, ১৯৬৮ এবং ২০০৪ সালের কংগ্রেসের থেকে খুব আলাদা। কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা যদি গঠনমূলক এবং ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করত এবং যোগ্যতা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিত, তাহলে একনাথ শিন্ডে এবং আমি, দুজনের কেউই আজ এখানে থাকতাম না। একনাথ শিন্ডেকে একটা বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, আমাকেও আজ একটা বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”
কোথায় আগের কংগ্রেসের থেকে বর্তমান দল আলাদা হয়ে গিয়েছে? মিলিন্দ দেওয়ার দাবি, বর্তমানে কংগ্রেস দলের একমাত্র লক্ষ্য হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা বলছেন বা করছেন, তার বিরোধিতা করা। তিনি বলেন, “যে দল এই দেশকে গঠনমূলক পরামর্শ দিত, কীভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই বিষয়ে পরামর্শ দিত, তার এখন একটাই লক্ষ্য – প্রধানমন্ত্রী মোদী যাই বলুন বা করুন না কেন, তার বিরুদ্ধে কথা বলা। আগামীকাল যদি তিনি বলেন, কংগ্রেস খুব ভালো দল। ওরা তারও বিরোধিতা করবে। আমি ‘গেইন’, অর্থাৎ বৃদ্ধি, আকাঙ্খা, অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয়তাবাদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমি ‘পেইন’, অর্থাৎ ব্যক্তিগত আক্রমণ, অবিচার এবং নেতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।”
শিবির বদলের সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বদলে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে মিলিন্দ দেওয়ার মনোভাবও। যে নেতা কয়েকদিন আগে পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রীর তীব্র বিরোধিতা করতেন, এদিন শিবির বদলের পর তাঁর মুখেই শোনা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশংসা। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। এটা সকল ভারতীয়র জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, “ভারতে কেন্দ্রে এবং রাজ্যে রাজ্যে শক্তিশালী সরকার গঠনের প্রয়োজন। আমাদের সকলের জন্য গর্বের বিষয় যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত আজ শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমি এটাও বলতে চাই, গত ১০ বছরে মুম্বইয়ে একটিও সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়নি। এটা মুম্বইবাসীর জন্য একটা বড় সাফল্য।”
