AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Who Owns India: ভারতের জমি, নদী ও জঙ্গলের মালিক কে? সংবিধান কী বলে…

Indian Constitution: নাগরিকরা নিজেদের জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। সেই মালিকানা আইন দ্বারা স্বীকৃত ও সুরক্ষিত। তবে সবসময়ই তা একটি বৃহত্তর সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকে। রাষ্ট্র সেই কাঠামো পরিচালনা করে এবং আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী তার সীমা নির্ধারণ করে।

Who Owns India: ভারতের জমি, নদী ও জঙ্গলের মালিক কে? সংবিধান কী বলে...
প্রতীকী চিত্র।Image Credit: TV9 বাংলা
| Edited By: | Updated on: Sep 20, 2026 | 1:40 PM
Share

কেউ ছোট্ট এক টুকরো জমি কিনলেন। রেজিস্ট্রি অফিসে কাগজে সিল পড়ল, হাতবদল হল জমির মালিকানা বা সেল ডিড। জীবনে প্রথমবার সেই ব্যক্তি নিজের জমির দিকে আঙুল দেখিয়ে বলতে পারলেন—‘এটা আমার।’

বিষয়টি শুনতে খুব ভালো মনে হয়। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

এই সাধারণ জমি কেনাবেচার পিছনে রয়েছে এমন একটি আইনি কাঠামো, যা অধিকাংশ ক্রেতাই হয়তো কখনও ভেবে দেখেন না। কোনও জমির মালিকের যে সম্পত্তির অধিকার রয়েছে, তা সংবিধানের ৩০০এ ধারা (Article 300A)-এর অধীনে সুরক্ষিত। এখানে ‘সাংবিধানিক অধিকার’ কথাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

একসময় এই অধিকার আরও শক্তিশালী ছিল। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সম্পত্তির অধিকার সংবিধানের মৌলিক অধিকারের অংশ ছিল। অর্থাৎ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমতার অধিকারের মতোই এটি ছিল নাগরিকদের সুরক্ষিত অধিকারগুলির মধ্যে একটি।

কিন্তু ১৯৭৮ সালে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকারের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

আজও আইন অনুযায়ী সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষিত। আইনসম্মত কর্তৃত্ব এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া কাউকে তাঁর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যায় না। তবে আগের মতো এটিকে সম্পূর্ণ অবিচ্ছেদ্য অধিকার বলা যায় না। বৈধ আইন এবং জনস্বার্থের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র কোনও ব্যক্তির সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে পারে।

জমি অধিগ্রহণ করতে পারে সরকার-

এই ক্ষমতাকে বলা হয় এমিনেন্ট ডোমেন (Eminent Domain)। সহজভাবে বললে, জনস্বার্থে সরকার নির্দিষ্ট শর্ত মেনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে পারে। যেমন, কোনও কৃষকের জমির উপর দিয়ে হাইওয়ে তৈরি করা হবে, অথবা কোনও পরিবারের বাড়ির জায়গায় মেট্রো প্রকল্প তৈরি হবে—এই  ক্ষেত্রে সরকার ব্যক্তি মালিকানায় থাকা জমিও অধিগ্রহণ করতে পারে।

তবে এর জন্য আইন মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল Right to Fair Compensation and Transparency in Land Acquisition, Rehabilitation and Resettlement Act, 2013।

অর্থাৎ, শুধু জনস্বার্থের কথা বললেই সরকার কোনও ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারে না। এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি ক্ষমতা থাকতে হবে এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। প্রয়োজন হলে আদালতেও এই বিষয়টি গড়াতে পারে।

তাই ভারতে ‘জমির মালিকানা’ও কিছু আইনি শর্তের মধ্যে রয়েছে। রাষ্ট্র কারোর জমির মালিক নয়। কিন্তু নির্দিষ্ট আইন ও শর্ত মেনে রাষ্ট্র সেই জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। এই ক্ষমতার ব্যবহারও আদালত নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করে।

নদী, জঙ্গল বা সমুদ্রের মালিক কে?

এবার বিষয়টি আরও বড় করে ভাবলে অন্য একটি প্রশ্ন সামনে আসে। নদী, জঙ্গল, উপকূল বা বাতাস—এসবের মালিকানা সাধারণ ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো নয়। এই জায়গাতেই আদালত পাবলিক ট্রাস্ট ডকট্রিন (Public Trust Doctrine) বা ‘জনস্বার্থে ট্রাস্ট’ নীতির কথা বলেছে।

এই নীতির মূল কথা হল, কিছু প্রাকৃতিক সম্পদ মানুষের জীবনের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে রাষ্ট্রও সেগুলির সাধারণ মালিক নয়। রাষ্ট্র এগুলি মানুষের হয়ে ট্রাস্টি হিসেবে ধরে রাখে। অর্থাৎ, এগুলি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; সাধারণ সম্পত্তির মতো ইচ্ছেমতো বিক্রি বা হস্তান্তর করা তার কাজ নয়।

উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, সরকার কোনও নদীর তলদেশ বা বনকে বিক্রি করতে পারে না, যেভাবে কোনও পুরনো সরকারি ভবন নিলামে বিক্রি করা যায়। কারণ আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের সম্পদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অবস্থান মালিক হিসাবে নয়, বরং ট্রাস্টির ভূমিকায় থাকে।

২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়-

এই নীতির সীমা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত আগে দেওয়া একটি বিস্তৃত ব্যাখ্যা থেকে সরে আসে। সেই পুরনো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, প্রায় সব ধরনের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তিকেও ‘সাধারণ মানুষের কল্যাণে’ পুনর্বণ্টনের আওতায় আনা যেতে পারে।

কিন্তু ২০২৪ সালের রায়ে আদালত জানায়, বিষয়টি এতটা বিস্তৃত নয়। অধিকাংশ ব্যক্তিগত সম্পত্তিই ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং সংবিধানের ৩০০এ (Article 300A)-এর অধীনে তা সুরক্ষিত।

জনস্বার্থ ট্রাস্ট (Public Trust Doctrine) মূলত এমন প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলি সীমিত, সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কোনও ব্যক্তি যে সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে মালিকানায় রেখেছেন, তার প্রত্যেকটিকে এই নীতির আওতায় ফেলা যায় না। অর্থাৎ, দেশের সম্পদের উপর সবার সম্মিলিত অধিকার রয়েছে—এই ধারণারও নির্দিষ্ট আইনি সীমা রয়েছে।

তাহলে ভারতের মালিক কে?

প্রশ্নটি ঘুরে ফিরে আবার শুরুতেই ফিরে আসে—যদি নির্দিষ্ট আইনি শর্তে ব্যক্তিগত জমি রাষ্ট্র অধিগ্রহণ করতে পারে, আবার নদী-জঙ্গলের মতো কিছু সম্পদ আদতে ব্যক্তিগত সম্পত্তিই না হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ভারতের মালিক কে?

আইনের দৃষ্টিতে সোজা উত্তর হল—‘মালিক’ শব্দটি যেভাবে সাধারণত ব্যবহার করা হয়, সেই অর্থে কেউই ভারতের মালিক নয়।

সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদে ভারতকে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ভারতকে ‘Union of States’ বা ‘রাজ্যগুলির ইউনিয়ন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

নাগরিকরা নিজেদের জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। সেই মালিকানা আইন দ্বারা স্বীকৃত ও সুরক্ষিত। তবে সবসময়ই তা একটি বৃহত্তর সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকে। রাষ্ট্র সেই কাঠামো পরিচালনা করে এবং আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী তার সীমা নির্ধারণ করে।

হয়তো এটাই পুরো ব্যবস্থার মূল কথা। কোনও একটি ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সরকার যদি একটি দেশের সমস্ত জমি ও সম্পদের সম্পূর্ণ মালিক হয়ে যায়, তাহলে সেই দেশের সম্পদ সেই পক্ষের ইচ্ছামতো ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কিন্তু যখন মালিকানা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত থাকে এবং আইন ও আদালতের মাধ্যমে তার সীমা নির্ধারিত হয়, তখন রাষ্ট্রকে বারবার নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়—কোন সম্পদ কার, কেন এবং কোন আইনের ভিত্তিতে।

তাই পরের বার কোনও জমির দলিলে সই করার সময় বা রাস্তার পাশে কোনও নদী দেখার সময় মনে রাখা যায়—‘মালিকানা’ সবসময় সম্পূর্ণ এবং সীমাহীন নয়। এটি একটি নির্দিষ্ট আইনি অধিকার, যার পিছনে রয়েছে সংবিধান। আর সেই সংবিধান কাউকেই—এমনকী রাষ্ট্রকেও-এককভাবে পুরো ভারতকে নিজের সম্পত্তি হিসেবে দাবি করার সুযোগ দেয় না।

সূত্র: ভারতের সংবিধান—Article 1 ও Article 300A; Right to Fair Compensation and Transparency in Land Acquisition, Rehabilitation and Resettlement Act, 2013; Supreme Court of India—Property Owners Association v. State of Maharashtra (2024); Article 300A এবং Public Trust Doctrine নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়।

Follow Us