
নয়া দিল্লি: আসন পুনর্বিন্যাসে কোনও রাজ্যের সঙ্গে ভেদাভেদ হবে না। গ্যারান্টি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। এ দিন সংসদে পেশ হয়েছে তিন বিল। আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধীদের দাবি, এতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিকে বঞ্চনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিলের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন যে উত্তর, দক্ষিণ, ছোট বা বড় কোনও রাজ্যই আসন পুনর্বিন্যাসে বঞ্চনা বা ভেদাভেদের শিকার হবে না।
এ দিন সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “যারা এই বিলের বিরোধিতা করছেন, তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য করছে। আমি বলছি যে এই প্রক্রিয়ায় কোনও ভেদাভেদ, অবিচার হবে না। আমি কথা দিচ্ছি। আপনারা যদি গ্যারান্টি শব্দ ব্যবহার করতে বলেন, তাই করব। যদি কথা দিতে বলেন, তাহলে তাই বলব।”
নাম না করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আমরা ভারতকে এক হিসাবে দেখি, বিভিন্ন খণ্ডে বা অংশ হিসাবে নয়। আসন পুনর্বিন্যাস কারোর সঙ্গে অবিচার করবে না।”
বিরোধী সাংসদদের ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা অতীতে এই সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছেন, তাদের দেশের মহিলারা ক্ষমা করেননি এবং তার পরের নির্বাচনে তারা অত্যন্ত খারাপ ফল করেছে। মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মিস করবেন না। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি-রাজনীতির লেন্স থেকে দেখবেন না, এটা দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত। এটা ২৫-৩০ বছর আগেই চালু হওয়া উচিত ছিল। যখন এই ধারণা প্রথম উঠেছিল, তখনই চালু হওয়া উচিত ছিল। যদি তখন প্রণয়ন হত, আজ আমরা পরিণত দেশ হতাম। সংশোধনই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য।”
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদী আরও বলেন, “দেশের ইতিহাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত থাকে, সমাজের মানসিকতা ও দেশের নেতৃত্বের দক্ষতা দেশের ইতিহাস তৈরি করে, ঐতিহ্য গড়ে। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে আজ এমনই একটা দিন। এটা কোনও একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেবে না, বরং দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মহিলাদের যারা অধিকার দিতে অস্বীকার করেছেন, তাদের ফল ভুগতে হয়েছে।”
“যারা রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে চান, তাদের এটা স্বীকার করতে হবে যে বিগত ২৫ বছর ধরে মহিলারা নেতৃত্ব হিসাবে উঠে এসেছেন। তাদের এই উত্থানকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আজ যারা বিরোধিতা করবেন, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে এর মূল্য চোকাতে হবে”, একথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বিরোধী দলগুলিকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা এর বিরোধিতা করলে আমার কিছুটা রাজনৈতিক লাভ হবে। কিন্তু সবাই একসঙ্গে মত দিলে কেউ একা লাভবান হবে না। আপনারা ক্রেডিটের কথা ভাবছেন? কাল এই বিল পাশ হলে আপনাদের সবার ছবি ছাপিয়ে ক্রেডিট দিয়ে দেব আপনাদের। সেটাই তো আপনারা চাইছেন? ক্রেডিটের ব্ল্যাঙ্ক চেক আপনাদের দিয়ে দিচ্ছি।“