
নয়াদিল্লি: দারিদ্র দূরীকরণই সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। ‘গরিবি হটাও’ শুধু কোনও রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং সরকারের প্রতিশ্রুতি। বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্ট তুলে ধরে এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর বক্তব্য, গত এক দশকে ভারতে দারিদ্র কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।
শনিবার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, “দারিদ্রের ঐতিহাসিক পতন ঘটেছে এবং মানুষের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।” পোস্টের একটি স্লাইডে লেখা ছিল, ‘গরিবি হটাও’ কখনও তাঁদের কাছে নিছক স্লোগান ছিল না, বরং এটি সরকারের অঙ্গীকার।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের ‘ইন্ডিয়া পোভার্টি অ্যান্ড ইক্যুইটি ব্রিফ: অক্টোবর ২০২৬’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে চরম দারিদ্র্যের হার ২০১১ সালে ছিল ২৭.১ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২.৬ শতাংশে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই সময়ে প্রায় ৪৯ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যের সীমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত এক দশকে আর্থিক দারিদ্র্র পাশাপাশি জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ভারতের উন্নতি হয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ৩ ডলারের চরম দারিদ্রসীমা এবং ৪.২০ ডলারের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দারিদ্রসীমাকে ভিত্তি করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। হিসাবের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP) ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই রিপোর্টকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারের উন্নয়নমূলক নীতির প্রশংসা করেছে বিজেপিও। দলের জাতীয় মিডিয়া কনভেনর আশিস উষা আগরওয়াল দাবি করেছেন, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিভিন্ন উদ্যোগের ফলেই দারিদ্র কমেছে।
বিজেপির দাবি, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা মানুষের হারও ২০১১ সালের ৫৭.৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে ১৬.১ শতাংশে নেমেছে। সব মিলিয়ে, বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই পরিসংখ্যানকে দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরছে কেন্দ্রের শাসকদল।