
নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লিতে ‘ভারত রিনিউয়েবল এনার্জি সামিট অ্যান্ড এক্সপো’ (Bharat Renewable Energy Summit & Expo)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শক্তির সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, জ্বালানির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে বারবার ব্যাহত করতে পারে।
শক্তির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা: প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শক্তি নিরাপত্তা সরাসরি তার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে পরিচ্ছন্ন শক্তির (Clean Energy) গুরুত্ব অপরিসীম।
৫০০ গিগাওয়াট (GW) পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যমাত্রা: আগামী ১০ থেকে ১১ বছরের মধ্যে দেশে অতিরিক্ত ৫০০ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি (Non-fossil fuel) ভিত্তিক শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিপুল বিনিয়োগের জোয়ার: বিগত এক দশকে ভারতে পরিচ্ছন্ন শক্তি খাতে ১৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালের ‘রি-ইনভেস্ট’ (RE-INVEST) সামিটের পর থেকেই ৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ এসেছে। দশকের শেষ নাগাদ এই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ ২০ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘ক্লিন কুকিং মুভমেন্ট’ বা পরিচ্ছন্ন রন্ধন আন্দোলন: আমদানিকৃত রান্নার গ্যাসের উপর ঘরের অন্দরের নির্ভরতা কমাতে এবং সৌর শক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করতে দেশজুড়ে একটি ‘ক্লিন কুকিং মুভমেন্ট’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত বছরগুলিতে ভারতের নেওয়া বিভিন্ন পরিচ্ছন্ন শক্তি বিষয়ক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা প্রতিকূলতা এবং বৈশ্বিক বিঘ্ন থেকে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করেছে। ভারতের রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বাড়াতে এই রিনিউয়েবল এনার্জি উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।