
গুয়াহাটি: ‘পাখির চোখ’ উত্তর-পূর্বাঞ্চল। রাহুল গান্ধীর সফরের পরই এবার অসমে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সন্ধ্যাতেই গুয়াহাটি পৌঁছেছেন তিনি। মূলত, একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই অসম সফর। সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করার সূচি রয়েছে তাঁর (PM Narendra Modi)।
পিএমও সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দু-দিনের ওড়িশা ও অসম সফরে বেরোন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওড়িশার সম্বলপুরে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধনের পরই তিনি সরাসরি উড়ে আসেন গুয়াহাটি। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ গুয়াহাটি বিমানবন্দরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে যান রাজ্যপাল গুলাব চাঁদ কাটারিয়া, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-সহ রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গুয়াহাটির কোইনাধোরা রাজ্য অতিথিশালায় যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তিনি রাত্রিবাস করবেন। রাতে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। যা লোকসভা ভোটের আগে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ খানাপাড়ায় ভেটেরিনারি কলেজের মাঠে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকেই তিনি একগুচ্ছ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বশর্মা জানান, প্রায় ১১,৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। যার মধ্যে রয়েছে, ৩৫৮ কোটি টাকার গুয়াহাটি বিমানবন্দর টার্মিনাল থেকে ৬ লেন বিশিষ্ট রোড, ৪৯৮ কোটি টাকার কামাখ্যা মন্দির করিডর, নেহরু স্টেডিয়ামের উন্নীতকরণ এবং চন্দ্রপুরে নতুন স্পোর্টস কমপ্লেক্স। এছাড়া গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নতুন ভবন এবং প্রস্তাবিত কাজিরাঙা মেজিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিলান্যাসও করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধনের পর রবিবার রাতেই দিল্লি ফিরে আসবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ করতে অসমে পা রেখেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তাঁর যাত্রায় বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অসম সরকার নানাভাবে ‘ন্যায় যাত্রা’-য় বাধা দেয় বলে অভিযোগ রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেস নেতৃত্বের। প্রতিবাদে ‘ন্যায় যাত্রা’-র মাঝে রাস্তায় বসে অবস্থাবন-বিক্ষোভ দেখাতেও দেখা যায় রাহুল গান্ধীকে। প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করেও রাহুলের অসম যাত্রায় রাজ্যবাসীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই ঘটনার সপ্তাহ খানেক পরই প্রধানমন্ত্রীর অসম সফরে গিয়ে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মে করছে রাজনৈতিক মহল।