
নয়া দিল্লি: আজ রাজধানীতে মেগা কর্মসূচি। ইন্ডিয়া জোট (INDIA Bloc) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরাট সমাবেশের আয়োজন করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই সমাবেশে অংশ নেবেন বলেই দাবি করছে বিরোধীরা। সমাবেশের ঠিক আগেই ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ রাখলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তিনি ইন্ডিয়া জোটের নেতা এবং বাকি সকল মানুষ, যারা আজকের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, তাদের সভা শেষে শপিং করার কথা বললেন। কেন এমন অদ্ভুত আবদার?
রাহুল গান্ধীর এই অনুরোধ বা আবদারের পিছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। দিল্লির বিভিন্ন যে সমস্ত মার্কেট আছে, সেখান থেকে জিনিস কিনতে অনুরোধ করেছেন রাহুল গান্ধী, যাতে এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের লাভ হয়। দীপাবলির ঠিক আগেই এত বড় মেগা সমাবেশ, এর জেরে ব্যবসায় বড়সড় ক্ষতি হতে পারে, এই আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করেছিলেন দিল্লির ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা।
চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-র তরফেও এই কর্মসূচির দিনক্ষণ ও জায়গা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। দিল্লির চাঁদনি চক, কনৌট প্লেস, সদর বাজার, করোল বাগ ও চউরি বাজারে দীপাবলির কেনাকাটা ব্যহত হবে এই জনসমাবেশে, এমনটাই জানানো হয়েছিল ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে। পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের জন্য প্রচুর বাস ও প্রাইভেট গাড়ির কারণে পুরনো দিল্লির সমস্ত রাস্তায় ব্যাপক যানজটও হবে। সেই কারণেই তারা বিক্ষোভ কর্মসূচির দিন বা জায়গা বদল করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। রাহুল গান্ধীর কাছে আর্জিও জানিয়েছেন যে এই সময়ে যেন কোনও জনসভা বা সমাবেশের আয়োজন না করা হয়। পুলিশি নিরাপত্তার কারণে তখন সাধারণ মানুষ আর দীপাবলির কেনাকাটা করতে আসবেন না। ব্যবসায় ক্ষতি হবে।
রামলীলা ময়দানের কর্মসূচিতে পরিবর্তন করা হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদেরও যাতে ক্ষতি না হয়, তার জন্য আজকের কর্মসূচিতে আসা সকলকে দিল্লির মার্কেটগুলি থেকে শপিং করার জন্য অনুরোধ করেছেন রাহুল গান্ধী। বিশাল জনসমাবেশ হলে, ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বদলে বিক্রিবাট্টাই বেশি হবে। উৎসবের সময়ে তাদেরও উপার্জন কিছুটা বাড়বে।
সরকারকেও দুষেছেন রাহুল গান্ধী। বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, ব্যারিকেড, মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে বলেই সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী।