
নয়াদিল্লি: মাঝে দু’টো দিন। দু’টো ভিডিয়ো মেসেজ। প্রথম ভিডিয়োটি ছিল ‘আম আদমি’-র জন্য। আরেকটা ভিডিয়ো আম আদমি পার্টির উদ্দেশে। কথা হচ্ছে রাঘব চড্ডাকে নিয়ে। তাঁকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আপ। তারপর থেকেই রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সংসদে যাতে রাঘবকে বলতে সুযোগ না দেওয়া হয়, তার জন্য আবেদন করেছে আম আদমি পার্টি। তবে, চুপ নেই রাঘব চাড্ডা। সংসদে বলা বন্ধ হলেও, তার বদলে সোশ্যাল মিডিয়াকেই মাধ্যম করেছেন রাঘব। গতকালের পর আজও একটি ভিডিয়ো পোস্ট করলেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর মুখে শোনা গেল ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ডায়লগ।
এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন রাঘব চাড্ডা। আম আদমি পার্টির তরফে একটি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,”গতকাল থেকে আমার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে। এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত আক্রমণ। প্রথমে ভেবেছিলাম এসবের জবাব দেব না, কিন্তু একটা মিথ্যে। হাজার বার বলা হলে তা সত্যি বলে মনে হতে পারে।” রাঘব জানিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি সেগুলির প্রত্যেকটির জবাব দিতে চান।
রাঘব চাড্ডা বলেন, “প্রথম অভিযোগ ছিল, বিরোধীরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে তিনি নাকি সেখানে বসে থাকতেন। এই অভিযোগকে মিথ্যে বলে দাবি করেছেন তিনি। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “সংসদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রমাণ করা হোক, আমি কোনওদিন বিরোধীদের সঙ্গে ওয়াকআউট করিনি।”
দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে তিনি সই করেননি। এই অভিযোগও অস্বীকার করে চাড্ডা বলেন,”আমাকে কখনওই সই করার জন্য বলা হয়নি। রাজ্যসভায় এএপি-র মোট ১০ জন সাংসদ আছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়-সাতজন সাংসদ নিজেরাই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেননি।তাহলে, এতে আমার ঠিক কী দোষ?”তিনি প্রশ্ন তোলেন,দলের অন্যান্য সাংসদরাও যখন সই করেননি, তখন শুধুমাত্র তাঁকেই কেন নিশানা করা হচ্ছে।
তৃতীয় অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,তাঁকে ভীতু বলা হচ্ছে। তিনি নাকি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উথ্থাপন করেন না। আপের তরফে অভিযোগ, শুধু সিঙাড়ার দাম নিয়ে কথা বলেন। এর জবাবে চাড্ডা বলেন, “আমি সংসদে হট্টগোল করতে যাই না। আমি মানুষের সমস্যা তুলে ধরতে যাই। জিএসটি থেকে আয়কর, পঞ্জাবের জল সমস্যা থেকে দিল্লির দূষণ,সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই আমি সংসদে তুলেছি। আপনারা গত চার বছরের আমার সংসদীয় রেকর্ড দেখতে পারেন। আমি সংসদে গিয়েছি প্রভাব ফেলতে, হট্টগোল করতে নয়।”
শেষে তিনি বলেন, সব মিথ্যের উপর থেকে একদিন পর্দা সরবে। সব সত্যি প্রকাশ্যে আসবে। তারপরই ধুরন্ধর-এর জনপ্রিয় সংলাপ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “কিউকি ম্যায় ঘায়াল হু, ইসিলিয়ে ঘাতক হু।”