
নয়া দিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইমপিচমেন্ট নোটিস খারিজ। রাজ্যসভা ও লোকসভার উভয় কক্ষেই খারিজ হয়েছে এটি। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং রাজ্য সভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ এই প্রস্তাব খারিজ করেছেন। ইমপিচমেন্টের জন্য কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী সকল দলগুলি সাংসদে নোটিস জমা করেছিলেন। সোমবার সেটাই গ্রহণ করা হয়নি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথমবার নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে সরানোর জন্য এমন নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই প্রস্তাবে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নেতৃত্বে বিরোধীরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু কোনও কক্ষেই তা গৃহীত হয়নি।
অভিযোগের মূল বিষয় কী ছিল?
১০ পাতার ওই নোটিশে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূলত সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল
ক) নির্বাচন পরিচালনায় পক্ষপাতমূলক আচরণ।
খ) বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া (Mass Disenfranchisement)।
গ)বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনে (SIR) অস্বচ্ছতা।
ঘ)একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি বিশেষ আনুগত্য দেখানো।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ সংসদের দুই কক্ষের দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেখানেই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন তাঁরা।
এ দিকে আজ, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান প্রস্তাবটি খারিজ করার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপি সংসদীয় ব্যবস্থা মানে না। পাল্টা বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, বিরোধীদের উচিত নির্বাচন কমিশনের ওপর দোষ না চাপিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে মন দেওয়া।