
গান্ধীনগর: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় রাষ্ট্রীয় একতা দিবস (Rashtriya Ekta Diwas)। ভারতের আধুনিকীকরণ ও জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেই এই দিনটি পালন করা হয়। চলতি বছর রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে গুজরাটের একতা নগরে। শনিবার, ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হবে এই অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। একতা প্যারেডে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণও দেবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের প্যারেডে অংশ নেবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF), বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনীর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠা তুলে ধরা হবে এই প্যারেডের মাধ্যমে। চলতি বছরের অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বামপন্থী চরমপন্থার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্যকে। পাশাপাশি, একসময়ে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিকে কীভাবে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, তাও তুলে ধরা হবে।
এবারের রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে নকশালমুক্ত ভারত নিয়ে একটি বিশেষ থিয়েটার প্রদর্শনী। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা (NSD)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ১২৬টি জেলার প্রায় দুই হাজার শিল্পী অংশ নেবেন। নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে ওই এলাকাগুলির মানুষের জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে তাঁদের এগিয়ে চলার কাহিনি তুলে ধরা হবে।
রাষ্ট্রীয় একতা দিবসে থাকবে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। বন্দে মাতরমের ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হবে বিভিন্ন ট্যাবলো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশপ্রেম, জাতীয় গৌরব এবং ঐক্যের বার্তা তুলে ধরবে এই পরিবেশনা। বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং উন্নয়নের যাত্রাও ফুটে উঠবে ট্যাবলোগুলিতে। এ ছাড়াও, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার শিল্পী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তাঁদের পরিবেশনায় তুলে ধরা হবে ভারতের ধ্রুপদি ও লোকসংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সমৃদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।
রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার একতা নগরে ‘ভারত পর্ব ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতীয় ঐক্য এবং ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর ভাবনাকে সামনে রেখেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিজেদের ঐতিহ্য, লোকশিল্প, আঞ্চলিক খাবার, হস্তশিল্প এবং পর্যটনস্থলগুলিকে তুলে ধরার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে একতা নগর ও আশপাশের এলাকায় পর্যটনের প্রসার ঘটবে বলেও আশা করা হচ্ছে। আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ‘ভারত পর্ব ২০২৬’।