TMC MPs: দিল্লিতে মমতার ‘পিছনেই’ গোপন বৈঠক বিক্ষুব্ধ TMC সাংসদদের, ছবি প্রকাশ্যে
Secret Meeting of Dissident TMC MPs: তিনি বলেই গিয়েছিলেন, তৃণমূল থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তৃণমূল ভাঙানোর রাজনীতিতেও যে তিনি সক্রিয়, তা খানিকটা এই ছবিতেই স্পষ্ট। সুখেন্দু শেখর ছাড়াও এই বৈঠকে রয়েছে শর্মিলা ঠাকুর, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসু নিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী। পাশাপাশি রয়েছেন অসিত মাল, কাকলি ঘোষ দস্তিদারও।

নয়া দিল্লি: ইন্ডি জোটের বৈঠক চলাকালীনই গোপন বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুদ্ধ সাংসদরা। বৈঠকের এক্সক্লুসিভ ছবি TV9 বাংলার হাতে। বৈঠকে রয়েছেন ১১ জন সাংসদ। জানা যাচ্ছে, কোনও এক সাংসদের বাসভবনে এই বৈঠক হচ্ছে। যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, সুখেন্দু শেখর রায় পদত্যাগ করেই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। তিনি বলেই গিয়েছিলেন, তৃণমূল থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তৃণমূল ভাঙানোর রাজনীতিতেও যে তিনি সক্রিয়, তা খানিকটা এই ছবিতেই স্পষ্ট। সুখেন্দু শেখর ছাড়াও এই বৈঠকে রয়েছে শর্মিলা ঠাকুর, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসু নিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী। পাশাপাশি রয়েছেন অসিত মাল, কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। এদিনের বৈঠকের পর তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করেন কিনা, সেটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উল্লেখ্য, TV9 বাংলা আগেই এই খবর দিয়েছিল, দিল্লিতে ৭ তারিখে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠক হল ৮ তারিখে। তৃণমূলের বিক্ষুদ্ধ সাংসদদের দল ভেঙে বেরোতে গেলে দুই তৃতীয়াংশ সমর্থনের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে লোকসভার অন্ততপক্ষে ১৯ জন সাংসদকে সেখানে থাকতে হবে। যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে সুখেন্দু শেখরকে বাদ দিয়ে যাঁদেরকে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা প্রত্যেকেই লোকসভার সাংসদ। কিন্তু ছবিতে সকলকে দেখা যায়নি। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকছে, দুই তৃতীয়াংশ কি আদৌ তাঁরা জড়ো করতে পেরেছেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, যদি এই সাংসদরা বিজেপির সঙ্গে সরাসরি ‘মার্জ’ করে যান, তাহলে দলত্যাগবিরোধী আইনে তাঁদেরকে আটকানো কোনওভাবেই সম্ভব হবে না। কিন্তু যদি তাঁরা লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা হিসাবে মানছেন না, সেক্ষেত্রে তাঁরা আলাদাভাবে একটি ব্লক তৈরি করতে চান, তার জন্য নেতা নির্বাচন করেন, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে তা সম্ভব নয়। কারণ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে যিনি দলনেতা হবেন, সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই রয়েছে। স্পিকার ব্লককে স্বীকৃতি দেন, তাহলে আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা রয়েছে।
এই প্রত্যেকটা দিক নিয়ে বিক্ষুদ্ধ সাংসদরা আলোচনা করছেন বলে খবর। তাঁরা এমন কোনও পদক্ষেপ করতে চাইছেন না, যাতে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন আনা যায়। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত তাঁরা পর্যাপ্ত সংখ্যা জড়ো করতে পারেননি, তাই তাঁরা আরও বেশ কয়েকটি দিন সময় নিচ্ছেন।
এদিকে, এই বিক্ষুদ্ধ বিধায়করা দিল্লিতে বেশ কয়েকদিন ধরে অবস্থান করলেও, তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে বিশেষ তথ্য সামনে আসছিল না। সেক্ষেত্রে মমতা যেদিন ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন, সেই মুহূর্তে এই সাংসদদের একসঙ্গে বৈঠকের ছবি ধরা পড়ল, যা যথেষ্ট চর্চার।
