
নয়া দিল্লি: প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্যাবলো বিতর্ক থামছেই না। এ বার, ট্যাবলো বিতর্কে টুইট করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman)। পরপর তিনটি টুুইট করেছেন অর্থমন্ত্রী। স্পষ্ট জানিয়েছেন, ট্যাবলো নিয়ে নোংরা রাজনীতি চলছে। এই রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত। পাশাপাশি এও জানিয়েছেন, ট্যাবলোর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পরে গোটা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে পালিত হচ্ছে।
নির্মলার টুইট
টুইটে অর্থমন্ত্রী লিখেছেন, “মোট ৫৬ টি ট্যাবলোর প্রস্তাবনা এসেছিল। কিন্তু, সবমিলিয়ে ২১ টি ট্যাবলোর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই অনুষ্ঠানে কাটছাঁট করা হয়েছে। ট্যাবলোর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কোনও হাত নেই।”
আরও একটি টুইটে নির্মলার সংযোজন, “দয়া করে ট্যাবলো নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করুন। নেতাজিকে সম্মান জানানোয় কোনও বিরোধ নেই। কেন্দ্রের তরফেও একটি নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষ্যে ট্যাবলো প্রস্তুত করা হয়েছে। দুটি একই পরিকল্পনার ট্যাবলো হয়ে যাবে বলে বাংলারটি বাদ দেওয়া হয়েছে।”
শুধু বাংলা নয়, কেরল ও তামিলনাড়ুরও ট্যাবলো বাতিল হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলা-সহ বাকি দুটি রাজ্যই অ-বিজেপি শাসিত। কেন ট্যাবলো বাতিল তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। ইচ্ছে করেই অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সঙ্গে সংঘাত বাড়াতে চাইছে কেন্দ্র বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। তাতে নির্মলা অন্য আরেকটি টুইট করে জানিয়েছেন, এতে কোনও সংঘাত নেই। উপরন্তু, এর আগেও বহুবার যে এই তিনরাজ্যের ট্য়াবলো অনুমোদন পেয়েছে সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
ট্যাবলো বিতর্ক
ট্যাবলো বাতিল নিয়ে বিতর্ক এড়ানো যাচ্ছে না। বাংলার ট্যাবলো বাদ কেন? এই প্রশ্ন তুলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-কে ইতিমধ্যেই চিঠি লিখেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ট্যাবলো বিতর্কে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। তাঁর দাবি, বাঙালির কাছে একটা আবেগের নাম নেতাজি। তাহলে, সেই ট্যাবলো যেন বাতিল না হয়, গোটা বিষয়টি পুনর্বার বিবেচনা করে দেখুন প্রধানমন্ত্রী এমনটাই অনুরোধ তথাগতর।
অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “রাজ্যে তৃণমূল সরকার মনে করে বাংলা একটা পৃথক রাষ্ট্র। কেন্দ্রে তো বিজেপি সরকার নেই। কেন্দ্রে রয়েছে ভারত সরকার। এখন, তৃণমূল সরকার যদি মনে করে নিজের ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করবে, তাহলে তো কিছু করার নেই। তাহলে তো বিরোধ হবেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আগেরবার বলেছিলেন কন্যাশ্রী নিয়ে ট্যাবলো বানিয়ে পাঠাবেন! যা চাইবেন তা হবে না কি!”
এখানেই থামেনি ট্যাবলো বিতর্ক। এই নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ নেতাজি-কন্যা। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “নেতাজি চিরকালই রাজনীতির শিকার। তাঁকে নিয়ে বরাবর রাজনীতিই হয়ে এসেছে। গত বছর বাংলায় ভোট ছিল। তাই, নেতাজির জন্মদিন ধূমধাম করে পালিত হয়। কিন্তু এ বছর, আর ভোট নেই।”
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো পাঠানোকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসেও রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, জল ধরো জল ভরো-র মতো বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রকল্প নিয়ে পাঠানো ট্যাবলোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নিয়ে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে ওঠে। ফের এ বছরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়াতে আবার নতুন করে সংঘাত হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh on Bengal BJP: ‘বিজেপিতে কেবল নিরামিষ হয় না, বিরিয়ানিও খাওয়া হয়…সময়ে মিটে যাবে’