AAP: গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈন, দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে কেজরীবাল বললেন…
Satyendar Jain arrested: দিল্লি বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব দাবি করেন, AAP দিল্লিকে লুট করেছে এবং এবার তাদের ‘আসল চেহারা’ সামনে এসেছে। তিনি বলেন, “দিল্লিকে যারা লুট করেছে, তাদের আসল চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে। দিল্লি জল বোর্ডের STP টেন্ডার দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলায় দুর্নীতি দমন শাখা সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করেছে। টেন্ডারে কারচুপি এবং কোটি কোটি টাকার ঘুষ—এটাই ছিল AAP-এর ‘সৎ’ মডেল।”

নয়াদিল্লি: দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ফের অস্বস্তিতে পড়ল অরবিন্দ কেজরীবালের আম আদমি পার্টি(AAP)। এবার দিল্লি সরকারের দুর্নীতি দমন শাখা (Anti-Corruption Branch) AAP নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যেন্দ্র কুমার জৈনকে গ্রেফতার করল। গ্রেফতার করা হয়েছে আরও পাঁচজনকে। দিল্লি জল বোর্ডের স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১১ মে দুর্নীতির অভিযোগে একটি FIR দায়ের করা হয়েছিল। দিল্লি জল বোর্ডের অধীনে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বড়সড় অনিয়ম, টেন্ডারের শর্তে কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছিল। এই মামলায় সত্যেন্দ্র জৈন ছাড়া গ্রেফতার হওয়া বাকি পাঁচজন হলেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন CEO তথা IAS আধিকারিক উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, এএন এন্টারপ্রাইজেস-র মালিক নাগেন্দ্র যাদব, ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক রাজা কুমার কুররা এবং শ্রীজনহারের মালিক পঙ্কজ বর্মা। দুর্নীতি দমন শাখার দাবি, তদন্তে দেখা গিয়েছে, টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় এমন কিছু প্রযুক্তিগত শর্ত ও বিধি রাখা হয়েছিল, যা একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেফতারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দাবি আপের-
সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আপ। এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তাদের অভিযোগ। আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, বিজেপির নির্দেশেই সত্যেন্দ্র জৈনকে ফের গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২৪ সালে জামিন পাওয়ার আগে অর্থপাচার মামলায় বেশ কয়েক মাস জেলে ছিলেন জৈন। কেজরিওয়ালের দাবি, সেই মামলাটিও সাজানো হয়েছিল।
কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতে বিজেপি মিথ্যা মামলা ও জেলকে হাতিয়ার করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই কথিত ‘স্বৈরাচার’ আর কতদিন চলবে। তাঁর দাবি, সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলাটিও শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হবে। জেলে থাকার সময় এবং মানসিক যন্ত্রণার জন্য যাঁদের নিশানা করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ কে দেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, দিল্লি বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব দাবি করেন, AAP দিল্লিকে লুট করেছে এবং এবার তাদের ‘আসল চেহারা’ সামনে এসেছে। তিনি বলেন, “দিল্লিকে যারা লুট করেছে, তাদের আসল চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে। দিল্লি জল বোর্ডের STP টেন্ডার দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলায় দুর্নীতি দমন শাখা সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করেছে। টেন্ডারে কারচুপি এবং কোটি কোটি টাকার ঘুষ—এটাই ছিল AAP-এর ‘সৎ’ মডেল।”
আগের মামলায়ও জেলে ছিলেন সত্যেন্দ্র জৈন-
২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দিল্লি সরকারের একাধিক দফতরের দায়িত্বে ছিলেন সত্যেন্দ্র জৈন। ২০২২ সালের মে মাসে অর্থপাচারের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ২০২৩ সালের মে মাসে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি। এরপর প্রায় ছয় মাস জেলে থাকার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিয়মিত জামিন পেয়ে জেল থেকে বের হন।
