
পটনা : বিহারের নালন্দার মন্দিরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল আট জনের। প্রত্যেকেই মহিলা বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নালন্দার শীতলা মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময় হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তারপরই পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় বহু মানুষ জখম হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, কমপক্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পরই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন ভক্তরা।
কী ঘটেছে?
জানা গিয়েছে, নালন্দার বিহার শরিফ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মাঘরা গ্রামে অবস্থিত শীতলা মন্দিরটি। চৈত্র মাসের শেষ মঙ্গলবার হওয়ায় এদিন মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক ভক্ত মমতা দেবী বলেন, “মঙ্গলবার এই মন্দিরে সবসময়ই ভিড় থাকে। শীতলা মায়ের দর্শনের জন্য বহু ভক্তের সমাগম হয়। আমরাও মন্দির দর্শনের জন্য এসেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। মানুষ মারা যান। এটা সম্পূর্ণ মন্দির কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থার জন্য হয়েছে। প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি।”
ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিহার সরকার। বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবকে। পাশাপাশি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মন্দিরে যাতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায়, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পটনার কমিশনারকে বিহার শরীফে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করেছেন। ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে। ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।
গত বছরও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটে শ্রী ভেঙ্কটশ্বরা স্বামী মন্দিরে। একাদশী উপলক্ষে মন্দিরে ভিড় করেছিলেন বহু ভক্ত। সেখানে পদপিষ্ট হয়ে ৯ জন ভক্তের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ও শিশু ছিল। আহত হন ১৩ জন। এক বছরের মধ্যেই ফের নালন্দার মন্দিরে পদপিষ্টের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।