
নয়া দিল্লি: জ্ঞানেশকাণ্ডে তোলপাড়ের মাঝেই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞার। হায়দরাবাদের নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে দেওয়া স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ।” তাঁর মতে, “এই পদক্ষেপ সংবিধানের ৩২৬ ও ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।”
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে রবিবারও বিক্ষোভ প্রতিবাদ চলে দেশের নানা প্রান্তে। মুম্বইয়ে পথে নামেন উদ্ধব ঠাকরে, রাজ ঠাকরেরা। অন্যদিকে দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখায় আম আদমি পার্টি। বাংলাতেও একাধিক কর্মসূচি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলো। জ্ঞানেশকাণ্ডে যখন জাতীয় রাজনীতি রীতিমতো তোলপাড়, সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই বিচারপতি মন্তব্য স্বাভাবিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, “আমি বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে যার নিন্দা তিনি করেছেন, এর আগে SIR এর মাধ্যমে যাতে বহু মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া না যায়, তার জন্য বহু মানুষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আজকে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি একটি অনুষ্ঠানে দিয়ে যে কথাটা বললেন, সেটা যদি আগে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির আসনে বসেই বলতেন, তাহলে হয়তো কোটি কোটি মানুষকে ভোটাধিকার হারাতে হত না।”
শীর্ষ আদালতের বিচারপতির এই মন্তব্যকে সাধুবাদ ও তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
কংগ্রেস মুখপাত্র মিতা চক্রবর্তী বলেন, “শুধু বিরোধী দলের নেতা বলছেন এমনটা নয়। নানা বর্গের মানুষ নানান তথ্য দিয়ে এই কথাই বলছেন। রাহুল গান্ধী বুঝিয়েছিলেন কীভাবে ভোট চুরি চলছে। তাঁর যুক্তিকে খণ্ডিত করতে পারেনি কমিশন।”
অন্যদিকে, বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এটা ওনার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। একজন বিচারপতি তিনি তাঁর বক্তব্য রেখেছেন, তা নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। তবে তিনি কোটি কোটি ভারতীয়র অধিকার রক্ষার কথা বলেছেন। তিনি কখনই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের অধিকার রক্ষার কথা বলেননি। কিংবা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলেননি।”