AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Supreme Court: সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম হাইকোর্টের

Supreme Court: ২০০৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে গড়ে উঠেছে সদগুরুর বিশাল ইশা ফাউন্ডেশন। কিন্তু সেই সময় পরিবেশ দফতরের কাছ থেকে কোনও ছাড়পত্র নেয়নি এই সংস্থা।

Supreme Court: সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম হাইকোর্টের
Image Credit: PTI
| Updated on: Feb 28, 2025 | 5:32 PM
Share

সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

২০০৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে গড়ে উঠেছে সদগুরুর বিশাল ইশা ফাউন্ডেশন। কিন্তু সেই সময় পরিবেশ দফতরের কাছ থেকে কোনও ছাড়পত্র নেয়নি এই সংস্থা। পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে অভিযোগ এনে এবং অবৈধ নির্মাণ বলে আদালতের দারস্থ হয়েছিল তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড।

তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের দায়ের করা সেই আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দিয়েছে কোয়েম্বাটুরে সদগুরুর ইশা যোগ ও ধ্যান কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

এর আগে কোয়েম্বাটুরের ভেলিয়ানগিরি পাহাড়ে পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে নির্মাণ কাজ চালানোর জন্য সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনকে নোটিস জারি করেছিল তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। তবে সেই শো কজ নোটিস বাতিল করে দেয় মাদ্রাস হাইকোর্ট। এরপরেই সর্বোচ্চ আদালতের দারস্থ হয় তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। তবে মাদ্রাস হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেই সুপ্রিম কোর্ট জানায় এই বিষয়ে জোরপূর্বক কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি এন কে সিং- এর বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়কে অনুমোদন দিয়ে টিএনপিসিবির চ্যালেঞ্জকে খারিজ করে দিয়েছে।

এর আগে পূর্ববর্তী শুনানিতে , কোর্ট প্রশ্ন করেছিল কেন TNPCB ২ বছর পরে এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। বেঞ্চ মৌখিকভাবে জানায় যোগা কেন্দ্র একটি শিক্ষা কেন্দ্র হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকারী।

শুক্রবার, আপিল খারিজ করার সময় আদালত স্পষ্ট করে বলে, বর্তমান মামলাটিকে অবৈধ নির্মাণ নিয়মিত করার নজির হিসাবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

এটাও স্পষ্ট করে দেয় যে ভবিষ্যতের যে কোনও নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন অনুসারে ইশা ফাউন্ডেশনের পূর্ব অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য।

বেঞ্চ বলে, “এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ভবিষ্যতে যদি সম্প্রসারণের কোনও প্রয়োজন হয়, তাহলে বিবাদী পক্ষকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বেই আবেদন করতে হবে।”

তামিলনাড়ুর অ্যাডভোকেট জেনারেল, পিএস রামন TNPCB-এর পক্ষে মামলা লড়েন। ইশা ফাউন্ডেশনের পক্ষে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুকুল রোহাতগি।

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ইশা ফাউন্ডেশনকে একটি শো কজ নোটিস পাঠানো হয়। যেখানে বলা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের এনভারামেন্ট ইম্প্যাক্ট অ্যাসেস্টমেন্ট নোটিফিকেশন ২০০৬ অনুসারে, বাধ্যতামূলক পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কেন নির্মাণ কার্য করা হয় তার কারণ জানতে চাওয়া হয়।

নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে, ইশা ফাউন্ডেশন মাদ্রাস হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। তাঁদের দাবি, উপরোক্ত নিয়মগুলি প্রণয়নের অনেক আগে, ১৯৯৪ সাল থেকে তাঁরা নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তা ছাড়া একটি যোগা কেন্দ্র “মানসিক বিকাশের প্রচারে নিযুক্ত” হওয়ায়, সংস্থ জানায়, এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন এবং ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা একটি স্পষ্টীকরণ অনুসারে, সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প শেড এবং হোস্টেল নির্মাণ কাজের আগে বাধ্যতামূলক পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত।

রাজ্য এই যুক্তির বিরোধিতা করে যে ইশা ফাউন্ডেশন “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” এর আওতায় পড়ে। তবে, তারা আরও বলেছে যে ফাউন্ডেশনটিকে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, কোয়েম্বাটুরে ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণের ২ লক্ষ বর্গমিটারেরও বেশি জমির মধ্যে মাত্র ১০,০০০ বর্গমিটারের জন্য একই প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে যুক্তি দিয়ে বলে যে, ইশা ফাউন্ডেশনকে পূর্ব পরিবেশগত ছাড়পত্র চাওয়ার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, কারণ এটি শিক্ষার প্রচারে নিযুক্ত ছিল। বিষয়টি বিচারাধীন থাকাকালীন, কেন্দ্র ২০২২ সালে একটি স্মারকলিপি জারি করে। মানসিক, নৈতিক এবং শারীরিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির উপর প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

২০২২ সালে, হাইকোর্ট শো কজ নোটিস বাতিল করে দেয়। পর্যবেক্ষণে জানায়, যেহেতু ইশা ফাউন্ডেশন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং যোগব্যায়ামের প্রচারের জন্য নির্মাণ কাজ করে তাই এটি একটি “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” এর সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। তাই পূর্ব পরিবেশগত ছাড়পত্র চাওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বেঞ্চ আরও পর্যবেক্ষণ জানায় যে ছাড়ের বিষয় কেরালা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ কেরালা হাইকোর্টের এখতিয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই, মাদ্রাস হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের দ্বারা আবদ্ধ নয়।

Follow Us