
নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বুধবার আদালতে ভোট গণনার ভিডিয়ো নেই বলে দাবি জানায় তারা। তখনই বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশনের বেঞ্চের কড়া মন্তব্যের মুখে পড়তে হয় কমিশনকে। ভোট গণনার ভিডিয়ো পেশ করতে না পারলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। কংগ্রেস নেতার দায়ের করা একটি মামলাতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কমিশনকে।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালে কর্নাটকের শৃঙ্গেরী বিধানসভায় ভোট হয়। সেই ভোটে কংগ্রেস নেতা টিডি রাজগৌড় লড়েছিলেন। অপরদিকে, বিজেপির প্রার্থী হন ডিএন জীবরাজ। সংশ্লিষ্ট ভোটে বিজেপিকে পরাজিত করে কংগ্রেস নেতা টিডি রাজগৌড় ২০১ ভোটে জিতেছিলেন বলে দাবি করে কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কর্নাটক হাইকোর্ট যায়। কোর্ট বাতিল হওয়া ২৭৯ পোস্টাল ব্যালট ভোটের গণনাকে পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দেয়।
সেই গণনার পর রিটার্নিং অফিসার কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজগৌড়কে পরাজিত এবং বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবরাজকে জয়ী ঘোষণা করেন। কমিশনের এই রায়ের বিরুদ্ধে এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাজগৌড়।
প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছিল?
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল তাঁর আবেদনটি বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত তিনি বিধানসভার সদস্য হিসেবে বহাল থাকবেন। কংগ্রেস প্রার্থী ভোট গণনার সেই ভিডিয়ো দেখতে চেয়ে আদলতে জানিয়েছিলেন।
বুধবারের শুনানিতে কী হয়েছে?
গতকাল কোর্টে সেই মামলার শুনানি ছিল। আদালতে কমিশনের আইনজীবীর জবাব ছিল, সেই ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। তখনই বিচারপতি বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবার বেঞ্চের অসন্তোষের মুখে পড়তে হয়।
আদলতের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন কীভাবে বলতে পারে তারা নথি হারিয়ে ফেলেছে, যেখানে ভোট প্রক্রিয়া তারাই পরিচালিত করছে। কমিশন জবাবে জানায়, মূল গণনার ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
‘নির্বাচন কমিশন কীভাবে বলতে পারে যে তারা নথি হারিয়ে ফেলেছে?’
কমিশনের আইনজীবীর এই সওয়ালও সন্তুষ্ট করতে পারেনি ডিভিশন বেঞ্চকে। আদালত কমিশনকে পরবর্তী শুনানিতে তাদের কাছে থাকা সমস্ত নথি পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে। সঙ্গে এও জানায়, এই ধরনের মন্তব্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। বিচারপতিরা বলেন, “ভারতের নির্বাচন কমিশন কীভাবে বলতে পারে যে তারা নথি হারিয়ে ফেলেছে? আপনাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো নির্বাচন করা। তার জন্য আপনাদের কাছে নথি থাকবেই। আমরা চেষ্টা করে দেখছি, এখানে প্রশ্ন উঠছেই বা কেন? এই ধরনের বোকা অজুহাত দেবেন না।” এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২০২৭ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি।