
তামিলনাড়ু : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা গিয়েছে। যদিও, কেন্দ্র জানিয়েছে এলপিজি উৎপাদন বেড়েছে। এছাড়া হরমুজ দিয়ে ভারতে দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কার প্রবেশ করতে চলেছে। তারপরেও চাহিদা অনুযায়ী জোগান না মেলায় গ্যাসের অভাবে বহু বড় বড় রেস্তরাঁ, হোটেল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই আবহে বৈদ্যুতিন ওভেন বা ইনডাকশনে রান্না করার পরমার্শ দিচ্ছে কেন্দ্র। আবার বৈদ্যুতিন ওভেন ব্যবহার করলে ইলেকট্রিক বিল আসবে বেশি। এই আবহে বড় ঘোষণা করেছে তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রান্নায় বৈদ্যুতিন ওভেন জাতীয় কিছু ব্যবহার করলে ইলেকট্রিক বিলে ভর্তুকি দেওয়া হবে।
দেশজুড়ে উদ্ভূত কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্যে সিলিন্ডারের ঘাটতি মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ করা যায়, সেই বিষয়ে সম্প্রতি একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। ওই বৈঠকে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিলনাড়ু জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশনের (TANGEDCO) অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (ACS) রাধাকৃষ্ণণ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান এবং ক্লাউড কিচেন-সহ বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে অতিরিক্ত বিলের উপর প্রতি ইউনিট ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ করে যাতে তাঁরা বৈদ্যুতিন ওভেন ব্যবহার করেন, সেকথা চিন্তা করেই সরকারের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, যতক্ষণ না এলপিজির সংকট কাটবে, ততদিন পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে।
তামিলনাড়ু সরকার আরও জানিয়েছে, এলপিজির উপর নির্ভরশীল এমএসএমইগুলিকে বৈদ্যুতিন ওভেন কিনতে সাহায্য করবে সরকার। বিভিন্ন রাজ্য প্রকল্পের অধীনে ভর্তুকি-সহ ঋণ প্রদান করা হবে। UYEGP স্কিমের অধীনে ৩.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ ভর্তুকি-সহ ঋণ পেতে পারেন। তামিলনাড়ু ওমেন ইন্টারপ্রিনারস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে ২৫ শতাংশ ভর্তুকি-সহ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। আন্নাল আম্বেদকর বিজ়নেস পাইয়োনিয়র প্রকল্পের অধীনে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভর্তুকি-সহ ঋণ পেতে পারেন। উল্লেখ্য, চলতি বছর তামিলনাড়ুতে নির্বাচন রয়েছে। তার আগে ২ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা করে মাস্টারস্ট্রোক দিল তামিলনাড়ু সরকার, এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তামিলনাড়ু সরকারের ঘোষণার পরই অনেকে বলছেন, এই উদ্যোগ সব রাজ্য সরকারের নেওয়া উচিত। একইরকমভাবে বাংলাতেও যদি এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে ছোট ব্যবসায়ীদের উপকার হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী দাবি করেছিলেন, মমতা চাইলেই রাজ্যে গ্যাসের দাম কমাতে পারে। অধীর বলেছিলেন, “দিদি যদি ভাবেন গ্যাসের যতটা দাম বাড়ল, ততটা যদি সাবসিডি দিই তাহলে মানুষ সস্তার গ্যাস পাবে।” তিনি রাজ্যের কাছে আবেদন করেছিলেন গ্যাসের যে দামটা বাড়ছে, রাজ্য ক্ষতিপূরণের মতো যাতে মানুষের স্বার্থে সাবসিডি (ভর্তুকি) দেয়।” তামিলনাড়ু সরকারের উদ্যোগের পর কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন? অবশ্য ভোট ঘোষণার পর রাজ্য সরকারের তরফে আর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবকাশ হয়তো থাকবে না।