Coal and Mines G Kishan reddy: লিথিয়াম ও নিকেল প্রক্রিয়াকরণে ২,৮১৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন কেন্দ্রের, কমবে বিদেশের উপর নির্ভরতা

কেন্দ্রের এই নতুন উদ্যোগে ব্যাটারি উৎপাদন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান আরও সহজ হতে পারে।

Coal and Mines G Kishan reddy: লিথিয়াম ও নিকেল প্রক্রিয়াকরণে ২,৮১৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন কেন্দ্রের, কমবে বিদেশের উপর নির্ভরতা
জি কি

Nov 04, 2026 | 7:10 PM

নয়া দিল্লি: লিথিয়াম ও নিকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে দেশকে স্বনির্ভর করতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার (Central Goverment)। আর সেই বিষয়েই জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি (G Kishan reddy)। দুই খনিজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ২,৮১৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য, বিদেশ থেকে খনিজ আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের মধ্যেই প্রক্রিয়াকরণ ও পরিশোধনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌরবিদ্যুতের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে লিথিয়াম ও নিকেলের বিশেষ প্রয়োজন। আগামী দিনে এই সব শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এই দুই খনিজের চাহিদাও বাড়বে। তাই এখন থেকেই দেশে এই খনিজগুলির প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্র।

নতুন প্রকল্পের আওতায় ভারতে প্রথমবার বড় আকারে লিথিয়াম ও নিকেল পরিশোধনের কারখানা তৈরি করা হবে। এই কাজে মোট ৯,৫৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বছরে ৬০ হাজার টন লিথিয়াম এবং ১ লক্ষ টন নিকেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে এই দুই খনিজের যতটা চাহিদা তৈরি হতে পারে, নতুন কারখানাগুলির উৎপাদন ক্ষমতা তার কাছাকাছি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের আশা, এই প্রকল্পের ফলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের আর্থিক মূল্য হতে পারে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে নতুন কারখানা তৈরি হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়বে।

কেন এই উদ্যোগ?  আসলে লিথিয়াম ও নিকেলের জন্য ভারতকে এখনও অনেকটাই বিদেশের উপর নির্ভর করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনও সমস্যা তৈরি হলে বা অন্য দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হলে এই খনিজের সরবরাহে সমস্যা হতে পারে। তাতে ব্যাহত হতে পারে দেশের বিভিন্ন শিল্প। তাই দেশের মধ্যেই খনিজ পরিশোধনের ব্যবস্থা তৈরি হলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খনিজের জোগান নিয়েও চিন্তা অনেকটা কমবে।

গত দু’বছরেও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। খনিজ সম্পদের খোঁজে ৯০১টি অনুসন্ধান প্রকল্প শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ব্লকের নিলাম করা হয়েছে। খনিজ পুনর্ব্যবহারের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও চালু হয়েছে। এই প্রকল্পে ৫৮টি সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে বছরে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টন খনিজ প্রক্রিয়াকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। খনির বর্জ্য থেকে মূল্যবান খনিজ বের করার কাজও চলছে। এই বিষয়ে গবেষণার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ন’টি বিশেষ কেন্দ্র।

এ ছাড়াও মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, গুজরাট ও ওড়িশায় চারটি বিশেষ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ শিল্প পার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পার্কগুলিতে বিভিন্ন সংস্থা কারখানা তৈরি করে খনিজ প্রক্রিয়াকরণ ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের কাজ করতে পারবে।

কেন্দ্রের এই নতুন উদ্যোগে ব্যাটারি উৎপাদন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান আরও সহজ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, লিথিয়াম ও নিকেল প্রক্রিয়াকরণে এই প্রকল্প দেশের শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরতা কমানোই কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us