
নয়া দিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশন (Monsoon Session of Parliament) শুরু হচ্ছে এই মাসেই। সূত্রের খবর, আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হবে। চার সপ্তাহ ধরে অধিবেশন চলবে। ১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলবে অধিবেশন। এবারের অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিগত তিন মাসে রাজনীতির সমীকরণে বিরাট পরিবর্তন হয়েছে।
এবারের অধিবেশন শুরু হলেই ওলট-পালট হবে লোকসভা। শাসক-বিরোধীর সংখ্যায় বিরাট পরিবর্তন আসবে। নতুন জোট, বিভিন্ন দলের ভাঙন, নতুন বসার ব্যবস্থায় বাদল অধিবেশনের সমীকরণই বদলে যাবে।
বিগত তিন মাসের মধ্যে রাজনীতির গঙ্গায় জল গড়িয়ে গিয়েছে অনেকটা। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খণ্ড খণ্ড হয়ে গিয়েছে। সাংসদরাও যেমন আলাদা হয়েছে, তেমনই বিধায়করাও আলাদা শিবির গড়েছেন। একই অবস্থা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাতেও। বিধায়কদের পর এবার সাংসদরা দল ছেড়ে একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, ডিএমকে-কংগ্রেসের জোট ভেঙেছে তামিলনাড়ু নির্বাচনের পর। এমকে স্ট্যালিনের দল আর কংগ্রেসের পাশে বসতে চায় না। এরফলে বিরোধী সাংসদদের সংখ্যা কমবে, শাসক এনডিএ-র সংখ্যা বাড়বে অনেকটা।
এবারের বাদল অধিবেশনে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূলের ২০ সাংসদের এনসিপিআই দলের সঙ্গে মিশে যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। একইভাবে উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের ছয় সাংসদের একনাথ শিন্ডের শিবিরে মিশে যাওয়া নিয়েও সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
ইন্ডিয়া জোটে ভাঙন ধরেছে বিগত এই কয়েক মাসে। ডিএমকে লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি লিখে আলাদা বসার জায়গার আবেদন করেছে। তারা কংগ্রেসের পাশে বসতে চাইছে না। তামিলনাড়ুর শাসক দল তথা অভিনেতা-মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল টিভিকে ইন্ডিয়া জোটে সামিল হয় কি না, তাও দেখার।
তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদ, শিবসেনা (ইউবিটি)-র ৬ সাংসদের সমর্থন এবার এনডিএ-র তরফে যাচ্ছে। যদি ডিএমকে-র ২২ জন সাংসদের সমর্থনও পায়, তাহলে এনডিএ-র সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছতে পারবে না।
লোকসভার ৫৪৩ আসনে ম্য়াজিক ফিগার ৩৬২। বসিরহাট, শিলং ও নওগং- এই তিনটি আসন এখন ফাঁকা আছে সাংসদদের মৃত্যুর কারণে। তারফলে এখন ম্যাজিক ফিগার ৩৬০। বর্তমানে এনডিএ-র কাছে ২৯৩ জন সাংসদের সমর্থন আছে। ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ ও শিবসেনার ৬ জনের সমর্থন নিয়ে, সেই সংখ্যা পৌঁছবে ৩১৯-এ। যদি ডিএমকে-র ২২জন সাংসদও সমর্থন করে, তাহলে এনডিএ-র সংখ্যা পৌঁছবে ৩৪১-এ।
গত এপ্রিল মাসে সংবিধান সংশোধনী বিল যখন পেশ করা হয়েছিল, তখন এনডিএ-র সপক্ষে ২৯৮ জন সাংসদ ছিল। আরও পাঁচজনের সমর্থন পেলেই দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যা পার করত। যেহেতু এবার সাংসদদের সমর্থন বেড়েছে, এনডিএ সরকার এই অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হল মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এবার এই বিলে নতুন সংশোধন এনে লোকসভা ও বিধানসভা আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে পারে।
সংবিধানের ১৩০ তম সংশোধনী বিলও আনতে পারে সরকার। এই বিলে বলা হয়েছে, যদি কোনও গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্যান্য মন্ত্রীরা একটানা ৩০ দিন গ্রেফতার বা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তবে তাকে মন্ত্রীপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার এবার এক দেশ, এক নির্বাচন বিল-ও পেশ করতে পারে। এছাড়া বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, অ্যান্টি-ডোপিং বিল আনতে পারে।
সেখানেই বিরোধীদের হাতে এবার মূল হাতিয়ার রয়েছে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস। এছাড়া রাম মন্দিরের অনুদান চুরি, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব নিয়েও তারা সরব হতে পারে।