
রামমন্দির ইস্যু ম্যাজিক ঘটাতে পারল না যোগীরাজ্যে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই দেখা গেল উত্তর প্রদেশে মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি। ভোটপূর্ববর্তী সমীক্ষা, বুথফেরত সমীক্ষা- সবেতেই উত্তর প্রদেশে এগিয়ে ছিল বিজেপি। গোবলয়ের এই রাজ্যে পদ্মশিবিরের আসন সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছিল একাধইক সমীক্ষা। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের প্রাথমিক প্রবণতাতেই যোগীরাজ্যে পিছিয়ে পড়েছে বিজেপি। সবাইকে চমকে দিয়ে উত্তর প্রদেশে এগিয়ে গিয়েছে সমাজবাদী পার্টি। কংগ্রেসও গত বারের থেকে বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ইন্ডিয়া জোট বিজেপিকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে উত্তর প্রদেশে।
দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি লোকসভা আসন রয়েছে উত্তর প্রদেশে। তাই দেশের সার্বিক ফলে উত্তর প্রদেশের ফলের প্রভাব থাকে স্পষ্ট। উত্তর প্রদেশের ৮০টি আসনের মধ্যে ৬২টি আসনে ২০১৯ সালে জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু এ বারের নির্বাচনে বিজেপি উত্তর প্রদেশে এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৩৪টি আসনে। অর্থাৎ গত বারের থেকে ২৮টি আসন হাতছাড়া হতে পারে পদ্মশিবিরের। সেখানে সমাজবাদী পার্টি এখনও পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে ৩৫টি আসনে। কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৭টি আসনে। উত্তর প্রদেশে বিজেপি-র এনডিএ শরিক আরএলডি ২টি আসনে এগিয়ে।
উত্তর প্রদেশে ২০১৯ সালে অমেঠী আসনে হেরেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই আসনে জিতে মন্ত্রীও হয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্মৃতি পিছিয়ে রয়েছেন। কংগ্রেসের কিশোরী লাল এগিয়ে রয়েছেন অমেঠীতে। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী দাঁড়িয়েছেন রায়বরেলীতে। সেখানে ২ লক্ষের বেশি ভোটে এগিয়ে তিনি।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব কনৌজ কেন্দ্র থেকে এগিয়ে। তাঁর স্ত্রী ডিম্পল যাদব মৈনপুরী কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন। ভোট শেষের পরই অখিলেশ কর্মী-সমর্থকদের সজাগ থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। বিজেপি-র ‘মিথ্যা প্রচার’-এর ফাঁদে পা না দেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে গণনা না হওয়া পর্যন্ত মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। এই বার্তা যে কাজে লেগেছে, তা বুঝিয়ে দিচ্ছে। ভোটের ফল। তাই তো ফলপ্রকাশের পর থেকে লখনউয়ে বিজেপি-র পার্টি অফিসে বিগত বছরগুলির উচ্ছ্বাস উধাও। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির অফিসে এখনও উৎসবের মেজাজ।