
নয়া দিল্লি: সম্প্রীতি পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files) নিয়ে দেশের সর্বত্র আলোচনা চলছে। ১৯৯০ সালে ভূস্বর্গতে কী ভাবে কাশ্মীর পণ্ডিতদের চরম অত্যাচারের মুখে রাজ্য ছাড়তে হয়েছিল, রূপোলি পর্দায় সেটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। তবে এই দাবি ঘির মতানৈক্যও আছে। অনেকেই আবার দাবি করছেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর অত্যাচার হয়েছে এটা ঠিক, কিন্তু ছবিতে যা সেই বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে দেখান হয়েছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন সময়ে ভূস্বর্গ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। এমনকী ‘কাশ্মীর’ শব্দ বা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে এই বিশেষণ ব্যবহার করা হলেও সেই নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন এক কাশ্মীরি ব্যক্তি। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, অনলাইনে বুকিং করা থাকলেও তাঁকে ঘর দিতে অস্বীকার করছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। সবথেকে বেশি অবাক করার মতো বিষয়, ওই ব্যক্তির পরিচয়পত্র কাশ্মীরের হওয়ার কারণেই তাঁকে এই হেনস্থার মধ্য পড়তে হয়েছে।
ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে হোটেলের রিসেপশনিস্ট এক মহিলা ওই ব্যক্তিকে ঘর দিতে অস্বীকার করছেন। ভিডিয়োতে ওই মহিলাকে দাবি করতে শোনা গিয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশিকার রয়েছে এই ধরনের পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে না। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে যাবতীয় দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। এই ভিডিয়ো প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই দাবি করেছিলেন, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবিটি কাশ্মীর মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। হঠাৎ করেই এক ব্যক্তিকে ফোন করে ওই মহিলাকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশ আমাদের কাশ্মীরের পরিচয়পত্র গ্রহণ করতে নিষেধ করেছে।”
এই ভিডিয়ো প্রকাশের পর থেকে বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্কের মুখে বুধবার দিল্লি পুলিশ একটি টুইট করে জানিয়েছে, “একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে পুলিশের নাম করে একটি হোটেলে কাশ্মীরের পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হয়নি। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই তবে এই ধরনের কোনও নির্দেশিকা দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।” এই ভিডিয়ো দেখার পর অনেকেরই দাবি, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া কাশ্মীর ফাইলস ছবির কারণেই হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। পুলিশ স্পষ্ট করে নিজের নির্দেশিকা জানানোর পর এখন পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।