AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Uttar Pradesh: ১২জনকে গুলি করে খুন, হাসতে-হাসতে চোখ ওপড়াতো ডেডবডির, এই ‘দস্যু কন্যা’ কে জানেন?

Uttar Pradesh: ৪১ বছর আগে কী হয়েছিল তা বোঝার জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। ভালবাসার দিবস, উত্তরপ্রদেশের বেহমাইয়া গ্রামের মানুষদের কাছে কালো দিন।

Uttar Pradesh: ১২জনকে গুলি করে খুন, হাসতে-হাসতে চোখ ওপড়াতো ডেডবডির, এই 'দস্যু কন্যা' কে জানেন?
| Updated on: Mar 03, 2025 | 7:38 PM
Share

এক মহিলার মৃত্যুতে খুশি গোটা গ্রাম। যেন অকাল দিওয়ালি শুরু হয়ে গিয়েছে। মৃত্যু সততই শোকের। সেখানে এক মহিলার মৃত্যুতে কেন হঠাৎ এত খুশি গোটা গ্রাম? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে মৃতার নামের মধ্যেই। তিনি আর কেউ নন বরং কুখ্যাত ডাকাত কুসুম নাইন। যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে মৃত্য হয় তাঁর। সেই খবর উত্তর প্রদেশের আউরাইয়া গ্রামে পৌঁছতেই সেখানে খুশির মহল। বাড়িতে বাড়িতে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে উদযাপন করেন সকলে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য যেন ৪১ বছরের পুরনো ঘায়ে প্রলেপ পড়ল। কিন্তু এক জন মহিলার বিরুদ্ধে সারা গ্রামের কেন এত ক্ষোভ? কী হয়েছিল ৪১ বছর আগে?

৪১ বছর আগে কী হয়েছিল তা বোঝার জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। ভালবাসার দিবস, উত্তরপ্রদেশের বেহমাইয়া গ্রামের মানুষদের কাছে কালো দিন। তখন ওই এলাকায় বিশাল দাপট গ্যাংস্টার ফুলন দেবীর। ১৯৮১ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি বেহমাইয়া গ্রামে হানা দেয় ফুলন দেবী এবং তার দলবল। শ্রীরাম সিং এবং তার ভাইদের তাঁর হাতে তুলে দিতে বলেন ফুলন দেবী। এক সময়ে শ্রীরাম এবং লালারামদের হাতে ধর্ষিত হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তাঁদের খুঁজে না পাওয়ার আক্রোশ গিয়ে পড়ে গোটা গ্রামের উপর। একই সঙ্গে গ্রামের ২২জন পুরুষকে যমুনা নদীর ধারে দাঁড় করিয়ে গুলি করে তার দলবল। মৃত্যু হয় ২০ জনের, বেঁচে যায় ২ জন। চালায় লুঠতরাজ।

এর পর থেকেই বদলার আগুনে জ্বলছিল কুসুম নাইন। লালারামের প্রেমিকা ছিলেন কুসুম। হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে, ১৯৮৪ সালে আউরাইয়া গ্রামের ১৫ জন মাঝিকে গুলি করে হত্যা করে কুসুম নাইন এবং তার দলবল। সেখানেই শেষ নয়, নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল সেই দিনের হত্যালীলা। গুলি করে মেরেও শান্তি হয়নি, তাই দু’জনের চোখ উপড়ে নিয়েছিল কুসুমের দলবল। চোখ উপড়ে নেওয়াটা যেন একপ্রকার স্টাইলে পরিণত হয়েছিল কুসুমের। ১৯৯৬ সালে ইটাওয়া জেলার বারেহ এলাকায় সন্তোষ এবং রাজা বাহাদূর নামে দুই মাঝির জীবিত অবস্থায় চোখ উপড়ে নিয়ে ফেলে রেখে চলে যায় কুসুমরা।

গ্রামের পুরনো বাসিন্দাদের থেকে জানা যায়, চোখ উপরে ফেলার পরে সেই দিন মৃত দেহ ঘিরে এক পাশবিক আনন্দ উদযাপন করছিল কুসুম নাইনরা। রামকুমারী নামে এক মহিলা জানান, তাঁর স্বামী বাঁকেলাল এবং শ্বশুর রামেশ্বরকেও হত্যা করেন কুসুমা। মাত্র ১২ বছর বয়সে বিধবা হন রামকুমারী।

সেই দিন থেকে, তিনি প্রতি মুহূর্তে ঈশ্বরের কাছে কুসুমের মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করতেন। এই গ্রামের বাসিন্দা প্রেমচাঁদ জানান সেই হত্যালীলা তার চোখের সামনেই ঘটেছিল। তিনি জানান, ওই ঘটনার পরে আতঙ্কে গ্রাম ছাড়েন অনেকেই। পরে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে সৎকার করেন।

গ্রামের আরেক মহিলা সোমবতী জানান, গ্রামের সকলকে ছল করে ডেকে আনা হয়েছিল। তারপর গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় সোমবতী নিজের বাবা, কাকা এবং মামাকে হারিয়েছিলেন। কুসুমের মৃত্যুর খবর পেতেই ওই গ্রামে এখন খুশির মহল। বাড়িতে বাড়িতে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দ উদযাপন করেন গ্রামবাসীরা।

Follow Us