
নয়া দিল্লি: কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) গড়েছিলেন। আবার কংগ্রেসেই ফিরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)? তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের পর জল্পনা আবার কংগ্রেসে ফিরতে পারেন মমতা। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) এই প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন মমতা, এমনটাই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
২৮ বছর পর ঘরে ফিরবেন মমতা? সত্যি উঠে যাবে মমতার হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেস? সূত্রের খবর, গতকাল সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যও। অভিষেককে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধী বলে সূত্রের খবর।
কংগ্রেস কর্মীরা এখন শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে। তবে চুরি বা দুর্নীতির অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের দলে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসে যারা রয়েছেন, তারাও আপত্তি তুলতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আগামিকাল, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টরা বৈঠকে বসতে চলেছেন। সেখানে রাজ্য থেকে শুভঙ্কর সরকারও যাচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে, মমতা বিরোধী যারা কংগ্রেস নেতৃত্ব রয়েছেন, তারা কংগ্রেসের বিভিন্ন আসনে বসতে পারেন।
এই বিষয়ে শুভঙ্কর সরকার বলেন, “আমি রাজনীতি করি মাটির উপরে দাঁড়িয়ে। আমি মনে করি, রাজনীতি সম্ভাবনাময় শিল্প। সেই সম্ভাবনাময় শিল্প কখন কোন দিকে গতি নেবে, তা আগামিদিনে বা আগামী কিছু সময়ের পর দেখতে পাবেন। অগ্রিম কোনও বিষয়ের উপরে রাজ্য কংগ্রেস প্রতিক্রিয়া দেবে না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, বিজেপির অত্যাচারের বিরুদ্ধে, আরএসএসের বিচারধারার বিরুদ্ধে যিনি লাগাতার লড়াই করছেন, ভারতের সংবিধানকে বাঁচানোর লড়াই লড়ছেন, তিনি রাহুল গান্ধী। যদি কেউ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে কেউ যদি আসেন, কারোর যদি ধক থাকে, ভয় পাবেন না, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বেন, তাঁকে আমরা স্বাগত জানাব। দুর্নীতিগ্রস্থ যারা, তারা কংগ্রেসে আসবেন না। তাদের জন্য আলাদা ওয়াশিং মেশিন দরকার।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে ফেরানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ভিতরে কী হয়েছে, কেউ জানে না। এই বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তবু বলব যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুরু কংগ্রেস থেকে হয়েছিল, তিনি যদি আবার কংগ্রেসে ফিরে যান, তবে সেই কথাটাই সত্য হবে যে পুনঃ মুষিক ভব।”
তবে কংগ্রেস নেতারা কি মেনে নেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কামব্যাক? সুকান্ত বলেন, “বর্তমানে যে পরিস্থিতি কংগ্রেসের, নেতা নেই, কর্মী নেই। তাতে তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেবেন কি না, তাদের বিষয়। এটাও ঠিক যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যা বয়স, তাতে কংগ্রেস বা অন্য কোনও দলকে দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট আছে।”