
কলকাতা: ভোটের নির্ঘণ্ট কবে ঘোষণা হবে? আর নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে কি সম্ভব হবে অমীমাংসিতের তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষের নথি যাচাই? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। কমিশনের কর্তারা অবশ্য খুব একটা আশার আলো দেখাতে পারছেন না। তাঁরা মনে করছেন, মার্চের শেষেও অমীমাংসিতের তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজারের নাম নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ মার্চে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হলে, তার আগে কোনওভাবেই বিবেচনাধীন লিস্ট প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেখানে ৬০ লক্ষের নাম অমীমাংসিতের তালিকায় থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা ওই অমীমাংসিতদের নথি খতিয়ে দেখছেন। এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন কেস সাড়ে ৭ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।আগামিকাল (৭ মার্চ) ঝাড়খণ্ড থেকে ১০০ জুডিশিয়াল অফিসার আসছেন। ওড়িশা থেকেও আসবেন আরও ১০০ জুডিশিয়াল অফিসার। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪পরগনা, বীরভূম, হুগলি, হাওড়া, নদীয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব বর্ধমান- এই আটটি জেলার বিবেচনাধীনের তালিকার নিষ্পত্তি করবেন তাঁরা। তাঁদের কাজ শুরু করতে আগামী সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। এই মুহূর্তে কাজ করছেন ৫০১ জন জুডিশিয়াল অফিসার। হিসেব বলছে, গড়ে ১ লক্ষ ৪০ হাজার একদিনে নিষ্পত্তি হলেও এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যাবে।
অন্যদিকে রাজ্যে আসছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ৯ মার্চ আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে। রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, অমীমাংসিতের তালিকার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যাতে ভোট ঘোষণা না হয়। তারা এই বিষয়টা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সামনে তুলে ধরবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ফুল বেঞ্চ আসার কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তা যদি হয়, তাহলে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে ৬০ লক্ষের নিষ্পত্তি কোনওমতেই সম্ভব নয় বলেই মনে করছে কমিশন।
কমিশন সূত্রের খবর, গতকাল হাইকোর্টের সঙ্গে বৈঠক রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, ৭ থেকে ১০ দিনের মাথায় সাপ্লিমেন্টারি ফাইনাল লিস্ট বের করার কথা। সেক্ষেত্রেও বাদ পড়ে থাকবে বহু ভোটারের ভাগ্য। ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি। সেখানে এই বিষয় উল্লেখ করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস।