CPIM: রিপোর্ট দিল পেশাদার সংস্থা, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে দেখানো হল সিপিএমের ‘দুর্বলতা’, ভোল বদলে কোন পথে বামেরা

CPIM: এবারই প্রথম রাজ্য সম্মেলনের মঞ্চে প্রায় তিন ঘন্টার জন্য আলাদা একটা বিশেষ অধিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নাম দেওয়া হয়েছিল আগামী কর্মসূচি। সেখানে মহম্মদ সেলিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পেশাদার সংস্থা রিপোর্ট পেশ করে।

CPIM: রিপোর্ট দিল পেশাদার সংস্থা, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে দেখানো হল সিপিএমের দুর্বলতা, ভোল বদলে কোন পথে বামেরা
ফাইল ফোটো

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Feb 25, 2025 | 7:45 AM

কলকাতা: ভোট ময়দানে ঘুরে দাঁড়াতে এবার তৃণমূল ও বিজেপির পথেই হাঁটছে সিপিএম! দীর্ঘ রিপোর্ট তৈরি করেছে পেশাদার সংস্থা। সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনের তৃতীয় দিনে সেই রিপোর্ট তুলে ধরা হল মঞ্চে। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মধ্যে দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হল সিপিএমের দুর্বলতা ঠিক কোথায়!

শুধু তাই নয়, এই দুর্বলতা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসতে হবে, তা নিয়েও বেশ কিছু পর্যালোচনা হয়েছে রাজ্য সম্মেলনের মঞ্চে। তবে এই পেশাদার সংস্থা অর্থের বিনিময়ে কিছু করছে না বলেই দাবি করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

বেশ কয়েক বছর ধরেই পেশাদার সংস্থাকে ব্যবহার করছে তৃণমূল ও বিজেপি। শুধু নানা বিষয়ে পর্যালোচনা নয়, প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে, কী কী করতে হবে তারও পথ বাতলে দিচ্ছে ওই পেশাদার সংস্থাগুলি। এই ধরনের সংস্থার বিরোধিতা বারবার করে এলেও এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে সিপিএমও।

এবারই প্রথম রাজ্য সম্মেলনের মঞ্চে প্রায় তিন ঘন্টার জন্য আলাদা একটা বিশেষ অধিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নাম দেওয়া হয়েছিল আগামী কর্মসূচি। সেখানে মহম্মদ সেলিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পেশাদার সংস্থা রিপোর্ট পেশ করে। সেখানে
অঞ্চল ধরে ধরে দেখানো হয়েছে, কেন বামেরা ভোটের রাজনীতি থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। কোথায় তাদের দুর্বলতা।

পুরুলিয়া অথবা বাঁকুড়ায় এক সময় সিপিএমের ভোট কত ছিল আর বর্তমানে কত, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিরোধীদের ভোট কত শতাংশ বেড়েছে সে ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। এরপর সেই অঞ্চলে মূল সমস্যা কি, সরকার কতটা সফল বা ব্যর্থ, তাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তারপরে দেখানো হয়েছে, কী কী বিষয়কে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে আন্দোলন করা উচিত। অর্থাৎ অঞ্চল ভিত্তিক নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে চিহ্নিত করে তা আন্দোলনের হাতিয়ার করতে হবে। এটাই সিপিএমের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু উঠছে সম্মেলনের তৃতীয় দিনে।

নেতৃত্বের দাবি, সাধারণভাবে গোটা রাজ্য জুড়েই একই ধরনের ভোট প্রচার চালানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা বদল করতে হবে। নির্দিষ্ট অঞ্চল ধরে কৌশল চূড়ান্ত করে সেই ভাবে প্রচার চালাতে হবে। সম্মেলনে স্থির হয়েছে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রিক এই বিশ্লেষণ নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আর তা সামনে রেখেই প্রচারের রণকৌশল ঠিক হবে।

মঙ্গলবার শেষ হবে সিপিএমের ২৭ তম রাজ্য সম্মেলন। এবারের রাজ্য কমিটিতে বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা কম বলেই সূত্রের খবর। রাজ্য সম্পাদক থাকছেন মহম্মদ সেলিমই। বয়সজনিত কারণে অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকার-সহ বেশ কয়েকজন বাদ যেতে চলেছেন। ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠনের বেশ কয়েকজনকে এবারও রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শেষ পর্যন্ত সুশান্ত ঘোষকে রাজ্য কমিটিতে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চূড়ান্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মৃণাল চক্রবর্তী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাহুল ঘোষদের নিয়েও চর্চা রয়েছে। সম্মেলনের আলোচনা, নেতৃত্বের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলকে নিয়ে আর খুব বেশি পরীক্ষা নিরীক্ষার করতে চাইছে না সিপিএম।

Follow Us