
কলকাতা: সরে গেলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের পোস্টার থেকে সরে গেল অভিষেকের ছবি। কুণাল ঘোষ নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টার শেয়ার করেছে। তাতে কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখা যাচ্ছে। পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘বিড়লা তারামন্ডল চলুন’। বক্তা তালিকাতেও নাম নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অথচ রবিবার তৃণমূলের তরফে একটি পোস্টার বের করা হয়, যেখানে লেখা ছিল কলকাতা চলো। একুশে জুলাইয়ের পোস্টার হলেও যেহেতু জায়গা তখনও নির্ধারিত ছিল না, তাই কেবল লেখা ছিল ‘কলকাতা চলো’। সেখানে মমতার পাশে অভিষেকের ছবি ছিল। অথচ হাইকোর্ট জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পর নতুন পোস্টারে নেই অভিষেকের ছবি।
কালীঘাট শিবির থেকে একের পর এক তৃণমূল নেতা-বিধায়ক নাম লেখাচ্ছেন ঋতব্রত শিবিরে। আর সবক্ষেত্রেই একটা বিষয় ‘কমন’ অর্থাৎ সাধারণ, প্রত্যেকেই মুখ খুলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই তালিকায় সর্বশেষতম সংযোজন মদন মিত্র। মঙ্গলবার মদনের স্ত্রী-র কেন্দ্রীয় এজেন্সির দফতরে ডাক পড়ে। বুধবার সকালেই দেখা যায় মমতার সঙ্গ ছাড়লেন মদন, হাত মেলালেন ঋতব্রতর সঙ্গে। এদিকে, আবার এদিনই কলকাতা হাইকোর্ট মমতা শিবিরকে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনেই একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে আদালত। আর আদালতের নির্দেশ পেতেই একুশের জুলাইয়ের পোস্টার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন কুণাল ঘোষ। পরবর্তীতে সেই পোস্টার শেয়ার করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
তবে দলের এই পরিস্থিতিতে পোস্টারে অভিষেকের ছবি না থাকা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালেও একুশে জুলাইয়ের পোস্টারে অভিষেকের ছবি ছিল না। আর সে সময়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ২১ জুলাই সমাবেশের প্রচার-পোস্টারে শুধুই দলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকবে। থাকবে না দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। ‘সেনাপতি’ অভিষেক তা জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালেও নেতাজি ইন্ডোরের সমাবেশের পোস্টারে মমতার পাশে অভিষেকের ছবি ছিল না।