
কলকাতা: অভিষেকের DJ মন্তব্য। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় FIR। তার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ পেলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে অভিষেক মন্তব্যে কড়া পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন করেন, “ভোটের ফলাফল উল্টে গেলে কী হত? শীর্ষস্থানীয় নেতার কেন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য?”
বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। শর্ত সাপেক্ষে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কোন কড়া পদক্ষেপ নয়। অভিষেকের ওপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশকে সহয়তা করতে হবে তাঁকে, বিদেশ যেতে পারবেন না আদালতের নির্দেশ ছাড়া। পাশাপাশি নোটিস মানতে হবে।
এদিনের শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, “যিনি মন্তব্য করছেন, তিনি একটি দলের সর্ব ভারতীয় জেনারেল সেক্রেটারি, তিনি তিন বারের সাংসদ, এই ধরনের মন্তব্য কি তাঁর মুখে শোভা পায়?” তিনি এটাও বলেন, “২০১১ সালে মানুষ অনেক আশা নিয়ে পরিবর্তন এনেছিলেন। এই ধরনের মন্তব্য অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।” তখন অভিষেকের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারে পারদ চড়া থাকে।’ রাজ্যের তরফে সওয়াল করা হয়, ‘অভিষেকের মন্তব্যের তদন্ত প্রয়োজন।’ ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার কথাও এদিন আদালতে উল্লেখ করেন তিনি। বিচারপতি তখন রাজ্যের ‘ব্ল্যাক হিস্ট্রি’ অর্থাৎ ‘কালো ইতিহাস’এর কথা উল্লেখ করেন।
সেক্ষেত্রে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিচারপতি এটা পর্যবেক্ষণে বলেছেন, তবে অর্ডারে লেখেননি। তবে আমরাও বলেছি, রাজনৈতিক ইতিহাস তো কেবল ২০২১ সাল থেকে দেখলে হবে না, ‘৬৭ সাল থেকে দেখলেই বোঝা যাবে। অভিষেককে প্রোটেকশন দিয়েছেন। নোটিস দিয়ে ডাকা হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসতে হবে। তবে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে, যদি আমাদের মনে হয়, ওনাকে (অভিষেককে) ডেকে হেনস্থা করা হচ্ছে, অনন্তকাল ধরে বসিয়ে রাখা হচ্ছে তদন্তের নামে, তাহলে আমরা আবার কোর্টে এসে দরখাস্ত করতে পারি।”
প্রসঙ্গত. চলতি মাসের ১৫ তারিখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যারের বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মী অভিযোগ দায়ের করেন। অভিষেকের বিরুদ্ধে এটাই ছিল রাজ্য পুলিশের প্রথম এফআইআর। নির্বাচনী প্রচারের সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উদ্দেশে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। ৪ তারিখের পর ডিজে বাজানোর কথা বলেছিলেন অভিষেক। তার ভিত্তিতেই মামলা।