Kolkata Metro: কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর মেট্রোয় ঐতিহাসিক বদল, ৪ দশক পর বদলে গেল কাঠামো
Kavi Subhash to Dakhineswar Metro: এক দফায় নয়। মেট্রোর তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত এই মেট্রো করিডরে পাঁচটি থেকে দু'টি দফায় ভেঙে ভেঙে কাজ করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত মাফিক দফায় দফায় কাজ হয়ে অবশেষে পুরো কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

কলকাতা: সেই ১৯৮৪ সাল থেকে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী কলকাতা মেট্রো (Kolkata Metro)। ক্রমশ দীর্ঘ হয়েছে রুট, বাদ পড়েছে নন এসি মেট্রো, পাতাল ফুঁড়ে মেট্রো এখন আকাশ ছুঁয়েছে। আর সেই মেট্রোয় এবার এক বড় বদল। প্রায় তিন বছর ধরে চলা কাজ শেষ। চার দশক পর বদলে গেল মেট্রোর কাঠামো। কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত অর্থাৎ মেট্রোর ব্লু লাইনে (Metro Blue Line) এই বদল করা হয়েছে। আর এই বদলে পরিষেবা হবে আরও সুবিধাজনক, খরচও কমবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের।
কলকাতা মেট্রোয় কী বদল?
ইস্পাত সরিয়ে বসানো হল অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেল। প্রায় তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে কাজ চলছিল। অবশেষে কাজ শেষ হল। ঐতিহাসিকভাবেই উত্তর-দক্ষিণ মেট্রো করিডরে পুরনো ইস্পাতের থার্ড রেল বদলে অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল বসিয়ে ফেললেন মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররা। চার দশক পর উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর পরিকাঠামোয় বড়সড় রদবদল আনতে সক্ষম হল কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
এক দফায় নয়। মেট্রোর তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত এই মেট্রো করিডরে পাঁচটি থেকে দু’টি দফায় ভেঙে ভেঙে কাজ করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত মাফিক দফায় দফায় কাজ হয়ে অবশেষে গোটা করিডরে থার্ড রেল সম্পূর্ণ অ্যালুমিনিয়ামের হয়ে গেল।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বছরে এক কোটি টাকার
এই বদলের ফলে আরও দ্রুত চলবে মেট্রো। দুটি মেট্রোর মধ্যে কমবে সময়ের ব্যবধান। মেট্রো কর্তাদের দাবি, অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল ব্যবহার করার ফলে ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের অপচয় কম হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বছরে এক কোটি টাকার। বদলের জন্য খরচ হওয়া টাকা বিদ্যুতের সাশ্রয় থেকে তিন বছরের মধ্যে উঠে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কীভাবে হল সেই কাজ?
কলকাতা মেট্রো সূত্রের খবর, মূলত দুটি দফায় কাজ হয়েছে। প্রথম দফায় মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশন বা টলিগঞ্জ থেকে দমদম পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফায় উত্তম কুমার স্টেশনের অন্য প্রান্ত থেকে কবি সুভাষ স্টেশন পর্যন্ত এই কাজ করা হয়।
পর্যায়ক্রমে দৈনিক ২০০ মিটার করে রেল বদলের কাজ হয়েছে। ইস্পাতের মতো অ্যালুমিনিয়ামের রেল জোড়ার জন্য ঝালাই করার প্রয়োজন পড়ে না, বদলে আলাদা পাত যুক্ত করে তা করা হয়।
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো এবং জোকা থেকে তারাতলা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা সবেমাত্র শুরু হয়েছে। নয়া এই পরিষেবায় প্রথম থেকেই থার্ড রেল অ্যালুমিনিয়ামের করা হয়েছে। কিন্তু উত্তর-দক্ষিণ লাইনে অর্থাৎ কবি সুভাষ থেকে দমদম পর্যন্ত যে লাইন রয়েছে, তা সবথেকে ব্যস্ত অংশ। তাই চার দশকের পুরনো ইস্পাতের থার্ড রেল বদলে সেখানে অ্যালুমিনিয়ামের রেল বসানোর সিদ্ধান্ত অবশ্যই অভিনব।
