
কলকাতা: কথা রাখল বিজেপি সরকার! ক্ষমতায় আসতেই খুলে গেল আরজি কর ফাইল। সাসপেন্ড ৩ বাঘা বাঘা আইপিএস। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাফ কথা, “নির্যাতিতার পরিবারকে এইভাবে টাকা দিতে যাওয়ার অভিযোগে আমরা এই তিনজনকে সাসপেন্ড করছি।” সাসপেন্ড বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্ত। রীতিমতো ক্ষোভের সুরেই শুভেন্দু বলেন, “সেই সময় একজন ডিসি সাংবাদিক বৈঠকে যেভাবে কথা বলেছিলেন এটা আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে খুব একটা সুখকর ছিল না। উনি তো কলকাতা পুলিশের মুখপাত্র ছিলেন না। পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বা হোম ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্রও ছিলেন না। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য কাগজে তাঁকে কেউ দায়িত্ব দেয়নি। কেউ মৌখিকভাবে দিয়ে থাকতে পারে। সেটা কল রেকর্ডে বোঝা যাবে।”
ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তিলোত্তমার মা-ও। তিনি বলছেন, “টাকা দিতে চাওয়ার প্রসঙ্গ যাতে আমরা না বলি তার জন্য আমাদের অনেক ভয় দেখানো হয়েছিল। আমি যখন বলে ফেলেছি তখনও ওর বাবা আমাকে বারণ করেছিল। কিন্তু আমি বলে ফেলেছিলাম। না বললে হয়তো বছরের পর বছর কেটে যেত।”
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, তিলোত্তমার ঘটনা বাংলার মান-মর্যাদা-গরিমাকে নষ্ট করেছে। তিনি বলছেন, “যখন বিভাগীয় তদন্ত হবে তখন যাঁদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি তাঁদের বক্তব্যও নেব, অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবার যদি চায় তাহলে তাদের বাড়িতে গিয়েও তাঁদের বক্তব্য আমাদের অফিসাররা নিয়ে আসবে।” এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মুখে উঠে আসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। তিনি যে তদন্তের বাইরে নন তাও জানাতে ভোলেননি। বলেন, “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই পরে পরে বের করব। দেখা যাবে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা সেটা দেখা হবে। সব বের করব।”
মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তিলোত্তমার মা-ও। বলছেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না। ও একটা সুরক্ষিত জায়গায় ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই আমি আমার মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এত তাড়াতাড়ি আবার ফাইল খোলার জন্য।”