
কলকাতা: যাত্রীর ভিড় সামাল দিতে পুজোয় এবার বাড়ল স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা। ৫১টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর কথা ঘোষণা করল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন (Sealdah Division)। পুজোর সময় বিভিন্ন জেলার মানুষ ট্রেনে চেপে কলকাতায় আসেন ঠাকুর দেখতে। আরা রাতে ট্রেনেই ফেরেন বাড়ি। তাই রেল পরিষেবায় বিশেষ গুরুত্ব থাকে বরাবরই। এবারও দুর্গাপুজো উপলক্ষে শিয়ালদহ ডিভিশনে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে পুজোর সময় রাতভর চলবে ৩৮টি স্পেশাল ইএমইউ। গতবার ৩১টি স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছিল শিয়ালদহ ডিভিশনের তরফে। এবার ২০টি বৃদ্ধি করে তা ৫১টি করা হল। দুর্গাপুজোয় যাত্রীদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে একাধিক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। যাত্রী পরিষেবা, নিরাপত্তা এবং স্টেশন পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। পুজোর পাঁচদিন শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনও গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। ভিড় সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার শিয়ালদহ শাখার ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “পুজোয় সবথেকে বেশি ভিড় হওয়ার সময় ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর। এই সময়ে মোট ৫১টি স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩১টি।”
রাতের সময়ে ৩৮টি স্পেশাল EMU চলবে শিয়ালদহের মেন, নর্থ ও সাউথ শাখায়।
সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের সুবিধার জন্য আরও ১৩টি স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে।
১০ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘপথের ট্রেনের ৮০টি অতিরিক্ত ট্রিপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫০।
১০ থেকে ১৫ অক্টোবর পুজোর আগের বাজারের ভিড় সামাল দিতে শিয়ালদহ–রানাঘাট–লালগোলা রুটে চারটি স্পেশাল ইএমইউ চালানো হবে।
পুজোর দিনগুলিতে দুপুর ২টোর পর থেকে সব সাবার্বান ইএমইউ অর্থাৎ লোকাল ট্রেন প্রত্যেকটি স্টেশনে দাঁড়াবে। ফলে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
প্রত্যেক সপ্তাহের রবিবার বনগাঁ শাখায় এসি লোকাল বন্ধ থাকে। কিন্তু পুজোর মধ্যে যে রবিবার পড়েছে অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর, এসি লোকাল পরিষেবা চালু থাকবে।
পুজোর ভিড় সামলাতে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বিশেষ ওয়ার রুম। CCTV-র মাধ্যমে ভিড়ের পরিস্থিতি নজরে রেখে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে স্ট্যান্ডবাই ট্রেন, অতিরিক্ত লোকো ক্রু, নিয়মিত ঘোষণা, মেডিক্যাল বুথ, হেল্প ডেস্ক এবং দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য মোবাইল মেইনটেন্যান্স টিম রাখা হবে।
শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনে অতিরিক্ত টয়লেট ব্লক তৈরি করা হয়েছে।
দমদমে যাত্রীদের চলাচল সহজ করতে সার্কুলেটিং এরিয়া উন্নত করা হয়েছে। লেভেল ক্রসিংগুলিতেও রাস্তা উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে।
রানাঘাটে অস্থায়ী বুকিং ও এক্সিট কাউন্টার তৈরি করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে রানাঘাট-প্রান্তের FOB-এর কাছে নতুন টিকিট কাউন্টার চালু করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের লাইনে অপেক্ষার সময় কমে।
শিয়ালদহ স্টেশনে প্রফুল্ল দ্বার, নর্থ, মেন, সেন্ট্রাল ও সাউথ গেট দিয়ে নির্দিষ্ট প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।