
কলকাতা: ভোটের আবহে যে কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না তা বারবার বলেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু হিংসা ঠেকানো যাচ্ছে কোথায়? প্রায়শই একাধিক জেলা থেকে আসছে হিংসা, হানাহানি, উত্তেজনার খবর। প্রথম দফার ভোটের আগে বাকি আর দু’সপ্তাহ। মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবার ভোটে বুথে বুথে কড়া নজরদারি চালাতে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের। প্রস্তুত কমিশনের কন্ট্রোল রুম। ভোট চলাকালীন প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে ৯০টি অত্যাধুনিক টিভি স্ক্রিনের সামনে সর্বক্ষণ নজরদারিতে থাকবেন ২০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুধু বুথের ভেতরে বা বাইরেই নয়, নজরদারি চলবে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, নাকা চেকিং পয়েন্টগুলোতেও। এর জন্য রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ হাজার ক্যামেরা বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্ট্যাটিক ক্যামেরার পাশাপাশি নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে টহলদারি গাড়ির মাথায় লাগানো বিশেষ ক্যামেরাও।
কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, এবারের নজরদারি ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে আসা লাইভ ফুটেজ বিশ্লেষণের জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভিড়ের মধ্যে থাকা মানুষজনকে বিশেষভাবে চেনা সম্ভব হবে। বুথের আশপাশে কোথাও কোনও সন্দেহজনক জমায়েত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইক্রো অবজার্ভারদের দৃষ্টি সেদিকে চলে যাবে, ফলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করতে ভোটের ঠিক একদিন আগে থেকেই প্রতিটি বুথের ক্যামেরা সচল করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, স্পর্শকাতর বুথগুলির নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে কমিশন। এই ধরনের প্রতিটি বুথের ভেতরে দুটি এবং বাইরে একটি করে মোট তিনটি ক্যামেরা বসানো থাকবে।