
কলকাতা: খেলার মাঠেও এবাপ বিজেপি সরকারের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। পূর্বতন সরকারের পরিবারতন্ত্র ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার বার্তা নতুন ক্রীড়া দফতরের। একাধিক বড় ঘোষণা নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের। একইসঙ্গে ৩০ জুনের মধ্যে ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট লাগু করার কথা ভাবছে সরকার। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে আগের সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায় নিশীথকে। সাফ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়াজগতের কী পরিস্থিতি ছিল! খেলাধূলার জগতের ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট লাগু করা হয়নি। পরিবারতন্ত্র, নেপোটিজম দেখা গিয়েছে স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে। এবার খেলাধূলা যেমন রাজনীতিমুক্ত হবে, স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন ও ফেডারেশনগুলো পরিবারতন্ত্র মুক্ত হবে। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যাক্ট পুরোদমে চলবে।”
সোজা কথায়, বিগত ১৫ বছরে খেলাধূলায় পিছিয়ে পড়া বাংলাকে জাগিয়ে তুলতে আসরে নতুন ক্রীড়া দফতর। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে একাধিক নতুন আর্থিক পরিকল্পনার ঘোষণাও করেন ক্রীড়া মন্ত্রী। বলেন, “নতুন ভাবে সাজিয়ে তোলা হবে সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামো। ১৫ বছর ধরে প্রতিভাধর খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার জন্য আর্থিক পুরস্কারে পশ্চিমবঙ্গ অনেক পিছিয়ে ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে।” ঠিক কেমন সেই প্রস্তাব?
অলিম্পিকে সোনাজয়ীদের জন্য ২৫ লাখ টাকা দিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নিশীথ বলছেন, আমরা ৮ কোটি টাকা দেব। রুপো জয়ীদের জন্য ১৫ লাখ টাকা দিত আগের সরকার। এবার বিজেপি সরকার দেবে ৬ কোটি টাকা। ব্রোঞ্জজয়ীদের জন্য আগে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারমূল্য ছিল। নিশীথ বলছেন, আমরা ৪ কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা করব।
অন্যদিকে এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও আসছে নতুন প্রস্তাব। আগে সোনা পেলে আর্থিক পুরস্কার ছিল সাড়ে ৭ লাখ টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা হচ্ছে ৫ কোটি টাকা। রুপোর ক্ষেত্রে ৪ কোটি। ব্রোঞ্জের ক্ষেত্রে ২ কোটি। কমনওয়েলথের ক্ষেত্রে আগে সোনা পেলে ছিল ৫ লাখ, এবার হবে দেড় কোটি। রুপোতে আগে ছিল ৩ লাখ। এবার হবে ৭৫ লাখ। ব্রোঞ্জে আগে ছিল ২ লাখ। এবার হবে ৫০ লাখ।
শুধু তাই নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী পদকজয়ীদের ডিএসপি লেভেলের চাকরির ব্যবস্থা করবে সরকার। নতুন পরামর্শদাতা কমিটিও তৈরি হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জন্য আলাদা কমিটি গঠন। সঠিক প্রতিভার মূল্যায়ন করার জন্য জেলায় জেলায় চলবে খোঁজ। একইসঙ্গে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মেসিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উঠতেই ফের একবার তৃণমূল সরকারের তুলোধনা করেন নিশীথ। বলেন, “ওটা পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়াজগতের কালো অধ্যায়। ফাইল ওপেন করেছি। তদন্ত করব। মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে তারা মেসিকে দেখতে আসেন। পদপিষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা তৈরি হয়েছিল। প্রত্যেকের অর্থ ফিরিয়ে দিতে বলব।”