
কলকাতা: বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বসেছে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের আসর। দু’দিনের এই সম্মেলনে দেশের ২০০ জন প্রতিনিধি-সহ মোট ৫ হাজার বিশিষ্ট শিল্পপতি-শিল্প বিশেষজ্ঞরা যোগ দিচ্ছেন। একেবারে যেন চাঁদের হাট! মুকেশ অম্বানি যেমন এসেছেন তেমনই এসেছেন ভুটানের মন্ত্রী ইয়নটেন ফুনসুক। বাংলার দরাজ প্রশংসা শোনা গেল সকলের মুখেই। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। ভুটানের মন্ত্রী তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাদারলি ফিগার বলেও সম্বোধন করলেন। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বললেন, “আমার মা ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই বছর জন্মান। তাই আমি তাঁর ছেলের মতো। উনি অবশ্যই আমার কাছে মায়ের মতো।”
শুধু তাই নয়, বাংলার সঙ্গে ভুটানের পারস্পারিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভুটান এবং বাংলা শুধুমাত্র প্রতিবেশী নয়। আমাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগ আছে। ইতিহাসেরও যোগ আছে। যোগ রয়েছে আধ্যাত্ববাদের ক্ষেত্রেও। তাঁর সাফ কথা, ভুটানে মমতা দিদি একটা পরিচিত নাম। এরপরই বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মমতার উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনার বোল্ড ভিশন গোটা দেশে সুপরিচিত। ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে আমাদের পার্টনারশিপ হতে পারে। আমরা বিনিয়োগকারীদের ট্যুরিজমের সুযোগ পর্যালোচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।”
কেন তিনি পর্যটন ক্ষেত্রে হাতে হাত ধরে কাজের কথা বলছেন এদিন তার ব্যখ্যাও দিতে দেখা যায় ইয়নটেনকে। তাঁর দাবি, হাই ভ্যালু লো ইনপ্যাক ট্যুরিজমের জন্য ভুটানকে বিবেচনা করা যেতে পারে। কানেক্টিভিটির জন্য ভুটানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আরও দাবি, এ ক্ষেত্রে বানারহাট সামসি রেলপথ গেম চেঞ্জারের ভূমিকা নিতে পারে। অর্গানিক ফার্ম ও কৃষি ক্ষেত্রেও ভুটান একটা সম্ভাবনাময় জায়গায় রয়েছে বলে তাঁর দাবি। একইসঙ্গে রিনিউয়েবল এনার্জির জন্যও ভুটান একটা সম্ভাবনার জায়গা বলে তাঁর মত। তাঁর কথায়, “গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে ভুটান এশিয়ার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা এনার্জি পার্টনারশিপ করতে পারি।” মোট কথায় এদিন মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ সম্ভাবনার কথা বলে গেলেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মন্ত্রী। এখন দেখার দিনের শেষে বাস্তবায়ন কতটা হয়।