
কলকাতা: ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) মামলায় এবার বড় অভিযোগ সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। প্রথমে প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়, পরে দফতরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইন্দ্রনীলকে। ক্ষমতায় থাকাকালীন যে দলের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতা হারানোর পর সেই দলের নেতার বিরুদ্ধে আরও একটা নতুন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে অস্বাভাবিক বলে মনে করেননি অনেকেই। তবে এবার প্রথম সরাসরি সামনে এল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
গায়ক-নেতা ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে পুজোর পাস নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পুজোর পাস দেওয়ার নামে ও ইউনেসকোর নামে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রকাশ্য়ে আনল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি-র তরফে যে প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানেই রয়েছে মমতার নাম। ইডি উল্লেখ করেছে, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ‘অকটেভ রেকর্ডস’ নামক সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল, এমন প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, ‘অকটেভ রেকর্ডস’ থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে ৩০ লক্ষ। ইডি-র দাবি, ইন্দ্রনীল সেন তাদের বলেছেন যে, মমতাকে ওই টাকা রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
কীসের রয়্যালটি, তা অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি এই প্রেস বিবৃতিতে। তবে মমতা এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, গান গেয়ে বা ছবি এঁকে রয়্যালটির টাকা পেতেন তিনি। এই প্রসঙ্গে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতা তথা মদন মিত্র বলেন, “মমতা ইন্দ্রনীল সেনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, এটা ভাবতে আমার অসুবিধা হচ্ছে।” অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের দাবি, এটা রয়্যালটি না বলে কাটমানি বলাই ভালো। এর আগে এই বিষয়ে আমি বারবার বলেছি যে, এই ঘটনার পিছনে মমতার হাত আছে, মাথা আছে।”