
কলকাতা : লেখক। প্রাক্তন সাাংবাদিক। পদ্মভূষণে সম্মানিত। রাজনীতির ময়দানেও অভিজ্ঞ। কথা হচ্ছে স্বপন দাশগুপ্তকে নিয়ে। গতবারও বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছেন। এবারও বিজেপির টিকিটে লড়ছেন। অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র রাসবিহারী থেকে তিনি পদ্মপ্রার্থী। সম্প্রতি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। মনোনয়নে নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব দিয়েছেন তিনি। কত সম্পত্তির মালিক স্বপন দাশগুপ্ত? ব্যাঙ্কে কত টাকা রয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কী, জেনে নেওয়া যাক।
স্বপন দাশগুপ্ত পেশায় লেখক। লেখা ও পেনশন থেকেই তাঁর আয়। হলফনামায় সেরকমই উল্লেখ করেছেন তিনি। স্বপন দাশগুপ্তের স্ত্রীও লেখিকা। এটাই তাঁর আয়ের উৎস। স্বপন দাশগুপ্ত উচ্চশিক্ষিত। লন্ডন থেকে পিএইডি করেছেন।
স্বপন দাশগুপ্তের আয়
হলফনামায় নিজের গত পাঁচ অর্থবর্ষে আয়ের হিসেব দিয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬০ টাকা। পরের অর্থবর্ষে আয় একলাফে অনেকটা বাড়ে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৭৬ লক্ষ ১৩ হাজার ১৬০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় কিছুটা কমেছে। তাঁর আয় ছিল ২১ লক্ষ ৯১ হাজার ৩৫০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় বেড়ে হয় ৩১ লক্ষ ১ হাজার ৩৮০ টাকা। তবে, পরের অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫-এ তাঁর আয় বেড়েছে। এই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৪১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৪০ টাকা।
স্বপন দাশগুপ্ত তাঁর স্ত্রী রেশমি রায় দাশগুপ্তেরও আয়ের হিসেব দিয়েছেন হলফনামায়। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৩০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬৪০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের আয় ৮১ হাজার ৯১০টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ৪ লক্ষ ৩১ হাজার ১৪০ টাকা। পরের অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫-এ তাঁর আয় ছিল ৫৯ হাজার ২২০ টাকা।
স্বপন দাশগুপ্তের অস্থাবর সম্পত্তি
হলফনামা অনুযায়ী স্বপন দাশগুপ্তের হাতে নগদ রয়েছে ১০ হাজার টাকা। মোট ৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কোনও অ্যাকাউন্টে ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭৭৩ টাকা রয়েছে, কোনও অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২ লক্ষ ২০ হাজার ৫৭১ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৬ লক্ষ ৮২ হাজার ৯১৬ টাকা। এ ছাড়া শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে বিজেপি প্রার্থীর। স্বপন দাশগুপ্তের তিনটি গাড়ি রয়েছে। সবথেকে দামী গাড়ির বাজারমূল্য ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তিনটি গাড়ির মূল্য ৩৯ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা। সোনা রয়েছে ৫০ গ্রাম। বাজারমূল্য ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্র রয়েছে ২০ লক্ষ টাকার ও ৫০ লক্ষ টাকার পেন্টিং রয়েছে তাঁর। ১০ লক্ষ টাকার স্ট্যাম্প রয়েছে। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা।
স্ত্রী অস্থাবর সম্পত্তি
রেশমি রায় দাশগুপ্তের হাতে নগদ রয়েছে ৫ হাজার টাকা। একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাতে রয়েছে ৩ লক্ষ ১ হাজার ৩৭৪ টাকা। সোনা রয়েছে ৩৫০ গ্রামের। যার বাজার মূল্য ৫১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তি পরিমাণ ৫৪ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৭৪ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি
স্বপন দাশগুপ্ত ও তাঁর স্ত্রীর কোনও কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। কোনও পৈতৃক সম্পত্তি নেই। দিল্লিতে একটি বাসভবন রয়েছে। তাতে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধেক মালিকানা রয়েছে। বাসভবনের মোট বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ দম্পতির স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫ কোটি টাকাই।
স্বপন দাশগুপ্তের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বা স্ত্রীয়ের কোনও ঋণ নেই। বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও মামলাও নেই।
গত বিধানসভা ভোটে তারকেশ্বর থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত। যদিও তিনি জিততে পারেননি। এবার রাসবিহারীর মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। স্বপন দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী দেবাশিস কুমার। এবার তিনি জিততে পারেন কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।