
কলকাতা: ব্রহ্মস এখন আরও ক্ষুরধার। মিনি ব্রহ্মসে আরও ধার। ব্রহ্মস এয়রোস্পেস কর্পোরেশন সূত্রে খবর, মিনি ব্রহ্মস তৈরির কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসেই হবে মিনি ব্রহ্মসের পরীক্ষা। ২০২৬ সালেই ড্রপ টেস্ট ও ফ্লাইট টেস্টের প্রস্তুতি। ২ ধাপে পরীক্ষার পর সেনার হাতে আসবে এই মারণাস্ত্র।
দূরপাল্লার ব্রহ্মসের পাশাপাশি এবার এর মিনি ভার্সন তৈরি করছে ভারত। দায়িত্বে ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস এয়রোস্পেস কর্পোরেশন। অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা প্রধান ভিআর চৌধুরীর বক্তব্য, স্বল্প পাল্লার যুদ্ধে, বা টার্গেটতে ধ্বংস করতে দুনিয়ার অন্যতম সেরা মিসাইল হয়ে উঠতে চলেছে এই মিনি ব্রহ্মস। তিনি বলছেন, ঘরের কাছে ভারতের চ্যালেঞ্জ সর্বাধিক। সে কারণেই মিনি ব্রহ্মস আরও বেশি করে দরকার।
এটি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হামলায় সক্ষম। সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। মূল ব্রহ্মসের তুলনায় ৬০ শতাংশ হালকা। হালকা হলেও ব্রহ্মসের মতোই কার্যকরী। মিনি ব্রহ্মস তৈরি হয়ে গেলে এটাই হয়তো হবে দুনিয়ার সবথেকে হালকা ও ধ্বংসাত্মক মিসাইল। ইউনিফায়েড কমান্ডের মত, এই হালকা মিসাইল তৈরির ভাবনা খুব পুরনো নয়। ২০১৮ সালে ব্রহ্মস এয়রোস্পেস কর্পোরেশনের কাছে এমন একটা মিসাইলের দরবার করেছিলেন প্রয়াত সেনা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। জেনারেল রাওয়াতের সুপারিশেই ব্রহ্মসের ক্ষুদ্র ভার্সান তৈরিতে হাত দেয় ডিআরডিও।
প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা বলছেন, চিন ও পাকিস্তানকে নজরে রেখে ছোট এলাকায় যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে হবে ভারতকে। ছোট এলাকায় দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কম পাল্লার মিসাইল ভারতকে কৌশলগত সুবিধা দেবে। LAC ও LOC তে মিনি ব্রহ্মস খুবই কার্যকরী ভূমিকা নেবে। মিনি ব্রহ্মসের পাশাপাশি ব্রহ্মস এনজি-র কাজও প্রত্যাশিত পথেই এগোচ্ছে। বায়ুসেনার ব্যবহারের জন্যই মূলত এটি তৈরি হচ্ছে। ২০২৩ সালে ব্রহ্মস 2K প্রকল্পে হাত দেয় ব্রহ্মস এয়রোস্পেস কর্পোরেশন। রাশিয়ার জিরকন মিসাইলের আদতে ব্রহ্মস 2K-র ভাবনা।