
কলকাতা: যাদবপুরে বুকস্টল ভাঙা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বামেরা। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ করে তারা। মঙ্গলবার বামেদের সেই মামলা খারিজ করে দিলেন বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়। নৈহাটি, বনগাঁয় বামেদের বুকস্টল নিয়ে মামলা প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিচারাধীন। তাই যাদবপুর নিয়ে আলাদা কিছু বলতে চায়নি বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ।
যাদবপুরে বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল সিপিএমের যাদবপুর এরিয়া কমিটি। বুকস্টল ভাঙচুরের জেরে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণও চায় তারা। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানায়। তারপর এদিন আবেদনের শুনানি হয়।
যাদবপুরে বুকস্টল নিয়ে বামেদের মামলা খারিজ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা সব বইপ্রেমী, কেউ বই বিরোধী নই। সরকার বা পৌরনিগম যা করেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে করেছে। আমি বলব, কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই। হাইকোর্ট এটা খারিজ করে ঠিকই করেছে। কারণ, যারা দুর্গাপুজোকেই মানে না, যেকোনও পুজোকেই মানে না, তাদের পুজোর সময় বই বিক্রি করতে না দেওয়াই ভালো। আপনি পার্টি অফিসের ভিতরে বই রাখুন।”
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধেয় যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে বামেদের বুকস্টল সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত। অভিযোগ, আচমকাই পুলিশ সেখানে হাজির হয়ে স্টল সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এমনকী, স্টল ভাঙার জন্য ঘটনাস্থলে বুলডোজ়ারও নিয়ে আসা হয়। আর তা ঘিরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেইসময় বুলডোজ়ারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সিপিএম নেতা ও কর্মী সমর্থকরা। রাত বাড়তেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে শুরু করে। মধ্যরাতে এপিডিআর-এর (APDR) বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। আর তা ঘিরেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ভোররাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। রাস্তায় নামেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। তারপরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম।