
কলকাতা: রাজ্যে যখন পুরভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তারই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে বড় স্বস্তি পেল রাজ্য। পুরভোটে আপাতত আর কোনও বাধা রইল না। কলকাতাকে ভেঙে অর্থাৎ আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) করে ২০৯টি ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। সেই ডিলিমিটেশন অনুযায়ীই হবে পুরভোট। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুর্নবিন্যস মামলায় কোন অন্তর্বতী নির্দেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
বিরোধীদের করা মামলায় অন্তর্বতী নির্দেশ দেওয়ার আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আবেদন খারিজ বিচারপতি করল হিরন্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। তবে মামলা খারিজ নয়। পরের শুনানিতে উভয়পক্ষের হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আপাতত কলকাতা পুরসভার ভোটে কোনও বাধা থাকছে না।
১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে ২০৯টি ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই পুনর্বিন্যাস হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে রাজ্য। কিন্তু মামলায় দাবি করা হয়, সঠিকভাবে পুনর্বিন্যাস হয়নি।
শুনানিত আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেছিলেন, এই ডিলিমিটেশন আদতে শহরবাসীর ঘাড়ে অতিরিক্ত খরচের বোঝা। জনসংখ্যা অনুযায়ী সব ওয়ার্ডের বিন্যাস সঠিকভাবে হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, শেষ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বা শাসক দল যে জায়গায় যেমন ভোট পেয়েছে সেই মতো বিন্যাস হয়েছে। আসনের পুনর্বিন্যাস অপ্রয়োজনীয় এবং এটা পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে এজি উল্লেখ করেন, কলকাতার আসন পুনর্বিন্যাসে বিধানসভায় নেওয়া প্রস্তাবে রাজ্যপালের অনুমতি মিলেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় আগে কেন কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। কোনও রাজনৈতিক দলও এই মামলা করেনি।
আইনজীবী বলেন, “মামলা হয়েছে। আদালত ওদের হলফনামা দিতে বলেছে। মামলা তো খারিজ হয়নি। এই সময় নির্বাচন করলে, আগামিদিনে নির্বাচন বাতিল হয়ে যেতে পারে।” তিনি মনে করেন, আদালতের সিদ্ধান্তের উপরেই আগামিদিনে পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “৩১ বা ৩৭-এ মামলা শেষ হবে। ততদিনে ভোটটা হয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য, আদালত কোনও বেনিয়ম পায়নি বলেই হস্তক্ষেপ করেনি।”