
কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের (Chorbagan Sarbojonin) দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এবার সামনে এল নয়া বিতর্ক। মণ্ডপে প্রবেশের জন্য দুই রকমের ভিআইপি পাস (Chorbagan VIP Pass) বিলি করা হয়েছিল বলে খবর। একটি নামী ই-কমার্স সংস্থার পাস। যার দাম ৩৯৯ টাকা। মিলেছে চোরবাগানের হোলোগ্রাম দেওয়া পাসও। তাও টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। টিভি৯ বাংলার হাতে এসেছে দুই ধরনের পাসই। সেই পাস বিলি ও বিক্রি নিয়েই এবার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
চোরবাগানের পুজোয় প্রবেশের জন্য যে দুই ধরনের ভিআইপি পাসের হদিশ মিলেছে, তার মধ্যে একটি নামকরা ই-কমার্স সংস্থার। সেই পাসে চোরবাগান সর্বজনীনের পাশাপাশি আরও একাধিক পুজো কমিটির নাম রয়েছে। ওই পাসের দাম ৩৯৯ টাকা।
অন্যদিকে, চোরবাগান সর্বজনীনের নিজস্ব পাসও সামনে এসেছে। তাতে রয়েছে পুজো কমিটির নাম, এবারের থিমের নাম এবং বিশেষ হলোগ্রাম। কোন রাস্তা দিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতে হবে, তাও স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে। প্রবেশপথ হিসাবে উল্লেখ রয়েছে বিধান সরণীর নাম। পাশাপাশি পাসে স্পনসরের নামও দেওয়া হয়েছে।
তবে চোরবাগানের নিজস্ব পাসে কোনও টাকার অঙ্ক উল্লেখ নেই। তা সত্ত্বেও পুলিশের অনুমান, এই পাসগুলিও অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শুধু পাস বিক্রি নয়, চোরবাগানের মণ্ডপে প্রবেশের নিয়ম নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দাবি করা হচ্ছে, পাস ছাড়া চোরবাগানের ঠাকুর দেখা যাবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে দাবি করছেন অনেকে। আর সেই ঘোষণাকে ঘিরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ।
চোরবাগানের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ভিআইপি পাসের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই একাধিক পাস বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তে মূলত উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন। কার অনুমতিতে এই পাস বিক্রি করা হয়েছিল? মোট কতগুলি পাস বিলি বা বিক্রি হয়েছিল? পাস বিক্রির সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন? চোরবাগানের নিজস্ব হলোগ্রাম দেওয়া পাসও কি টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল?